রাস্তা নির্মাণে বাধা ও মারধরের অভিযোগ, আরটিআই কর্মীর জামিন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

সড়ক নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান এবং শ্রমিকদের হেনস্থা করার অভিযোগে অভিযুক্ত আরটিআই (RTI) কর্মী রাকেশ কুমার বাহলকে বড়সড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৫ জুন) শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, অভিযুক্ত কর্মীকে কোনোভাবেই আগাম জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বর্তমান সময়ে আরটিআই আন্দোলনকে অনেকে এক ধরনের ‘নতুন ব্যবসা’ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আদালত সূত্র থেকে জানা যায়, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দেওয়া আগাম জামিন নামঞ্জুরের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন রাকেশ কুমার বাহল। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই রায়কেই বহাল রাখে। শুনানির সময় বিচারপতি সন্দীপ মেহতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “আরটিআই আন্দোলন এখন একটি নতুন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের তদারকি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং তারাই এই কাজের দায়ভার গ্রহণ করবে। আপনি বা আপনারা কেউ নন যে এই তদারকি করবেন। একেই বলা হয় হলুদ সাংবাদিকতা বা ফায়দা লোটার চেষ্টা।”

বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোই মামলার শুনানির সময় অভিযুক্তকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “রাস্তা নির্মাণ বা এর অগ্রগতির তদারকি করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? আপনি কি সরকারি কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা?” এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তেই অটল থাকে।

ঘটনার সূত্রপাত রাকেশ কুমার বাহলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি এফআইআর থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাকেশ বাহল এবং তাঁর অপর এক সঙ্গী জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারী এবং কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের তাঁরা প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ। মারধরের পাশাপাশি, শ্রমিকদের লক্ষ্য করে জাতিগত ও অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিএসএন (BNS), ২০২৩-এর একাধিক ধারা এবং এসসি/এসটি আইনের বিশেষ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়ে বলা হয়েছিল, এফআইআর-এর বয়ান এবং অভিযোগগুলি সরকারি কাজে সরাসরি বাধা এবং হেনস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। আদালত সেই সময় বলেছিল, অভিযুক্তদের কাজ শুধুমাত্র সরকারি কাজে বাধাদানই নয়, বরং শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনও বটে। হাইকোর্টের এই রায়কে মান্যতা দিয়েই সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ আরটিআই কর্মীদের স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল। আরটিআই আইনের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা সরকারি কাজে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এটি একটি বড় বার্তা। আদালতের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে এই ধরনের ব্যক্তিদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।