গ্ল্যামারের আড়ালে একাকীত্ব! মাত্র ৩০-এ চিরবিদায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলের

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতে নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া। মাত্র ৩০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, নিজের ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হয়েছে তাঁর নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা এক হাসিখুশি তরুণী কেন এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সঞ্চিতার আকস্মিক প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অগুনতি অনুরাগী। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয়ের স্বাক্ষর রাখছিলেন তিনি। ‘কুমকুম ভাগ্য’, ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ভিকি কৌশল অভিনীত ঐতিহাসিক ছবি ‘ছাবা’-য় ‘তারাবাই’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে বড় পর্দাতেও নিজের জাত চিনিয়েছিলেন সঞ্চিতা। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ধারাবাহিকে ‘সুকুন’ চরিত্রে তাঁর কাজ সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

সঞ্চিতার মৃত্যুর খবরটি আরও বেশি মর্মান্তিক মনে হচ্ছে কারণ, মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত আগেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি রিল পোস্ট করেছিলেন। সেখানে একটি চনমনে গানের তালে তাঁকে নাচতে দেখা গিয়েছিল। সেই হাসিমুখের আড়ালে যে গভীর যন্ত্রণা ও অবসাদ লুকিয়ে ছিল, তা টের পাননি তাঁর কাছের মানুষরাও। আজ সেই ভিডিওর কমেন্ট বক্সে অনুরাগীরা শোক প্রকাশ করছেন।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, সঞ্চিতা নিজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। গত বছর সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মিশা আগরওয়ালের মৃত্যুর পর তিনি মানসিক অবসাদ ও সোশ্যাল মিডিয়া ভ্যালিডেশনের চাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “আজকালকার ছেলেমেয়েরা খুব সহজে জীবন শেষ করে দিচ্ছে, যা ভাবলে বুক ফেটে যায়।” আজ সেই মানুষটির এমন পরিণতি সবাইকে এক বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলমলে আলোর পেছনে থাকা অন্ধকার ও একাকীত্ব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সঞ্চিতার প্রয়াণ যেন সেই নির্মম সত্যকেই ফের একবার সামনে নিয়ে এল।