অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট, কবে থেকে মিলবে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া?

ভারতের প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগীর জন্য অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) বর্তমানে সবথেকে আলোচিত বিষয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কর্মীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—বেতন কবে বাড়বে এবং বকেয়া টাকা কবে হাতে আসবে? যদিও কমিশন এখনও চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়নি, তবে সরকারি নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী বেতন কমিশনের ধারা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশন গঠিত হয়। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। আগের বেতন কমিশনগুলির ধারায় দেখা গেছে, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং বাস্তবায়নের তারিখের মধ্যে ব্যবধান থাকলে সরকার বকেয়া (Arrears) প্রদান করে। এক্ষেত্রেও সেই একই ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

কর্মীদের মধ্যে সবথেকে বেশি জল্পনা চলছে সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি নিয়ে। বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, যদি সরকার ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গ্রহণ করে, তবে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৯,০০০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে মূল বেতন বাড়বে প্রায় ৫১,০০০ টাকা। যদি অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয় এবং সরকার তা ২০২৭ সালের শেষভাগে বাস্তবায়ন করে, তবে কর্মীদের ২৪ মাসের বকেয়া পাওনা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২.২৪ লক্ষ টাকা। যদি ১৮ মাসের বকেয়া হিসেব করা হয়, তবে সেই অঙ্ক দাঁড়াবে ৯.১৮ লক্ষ টাকা। যদিও এই হিসেব সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর, কারণ সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করেনি।

বকেয়ার চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ভর করবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর—বর্তমান মূল বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, মহার্ঘ ভাতা (DA) একীভূতকরণের পদ্ধতি এবং বাস্তবায়নের প্রকৃত তারিখ। বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশন বিভিন্ন মন্ত্রক, কর্মী সংগঠন এবং অংশীদারদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, যখনই বেতন কমিশন কার্যকর হতে দেরি হয়েছে, সরকার বকেয়া মেটানোর জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কর্মীরা এখন সেই সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। তবে চূড়ান্ত ঘোষণার আগে পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। সরকারি কর্মীদের ধৈর্য ধরে কমিশনের পরবর্তী বার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।