বিজ্ঞানী বা পাইলট হওয়ার দরকার নেই, এবার আপনিও যেতে পারেন মহাকাশে! ঐতিহাসিক ঘোষণা ISRO-র

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণযুগের সূচনা করতে চলেছে ভারত। এবার কেবল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট বা বিজ্ঞানীরাই নন, সাধারণ মানুষের জন্যও মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO)। গগনযান মিশনের সাফল্যের পর দ্বিতীয় দফায় সাধারণ নাগরিকদের মহাকাশে পাঠানোর এক অভাবনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
কারা পাবেন এই সুযোগ? টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরোর দ্বিতীয় দফার মিশনে মোট ১০ জন মহাকাশচারী নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে ৬ জন থাকবেন মিলিটারি এভিয়েশন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মিশন পাইলট। কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হলো, বাকি ৪ জন নেওয়া হবে সাধারণ নাগরিকদের মধ্য থেকে। বিশেষ করে যাঁদের STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অঙ্ক) বিষয়ে গভীর জ্ঞান রয়েছে বা যারা পেশায় চিকিৎসক, তাঁরাও এই মিশনে সামিল হতে পারবেন। মূলত মাইক্রোগ্রাভিটি গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য এই দক্ষ বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইসরো।
বছরে দুটি মিশন ও মহাকাশ স্টেশনের লক্ষ্য ইসরোর লক্ষ্য কেবল একবার মহাকাশে যাওয়া নয়, বরং প্রতি বছর অন্তত দুবার মানব মিশন পরিচালনা করা। ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে সফল করতেই এই বড়সড় নভোচারী বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দিনে ভারতের এই মহাকাশচারী দলের সদস্য সংখ্যা ৪০ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ব্যাচে ১০ জন থাকলেও, তৃতীয় ব্যাচে ১২ জন মহাকাশচারীকে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে।
গগনযানের পর নতুন দিগন্ত বর্তমানে গগনযান মিশনের জন্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন প্রশান্ত নায়ার, শুভাংশু শুক্লা, অজিত কৃষ্ণণ এবং অঙ্গদ প্রতাপ কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছেন। এই প্রথম দফার মিশনের পর দ্বিতীয় দফায় হেলিকপ্টার পাইলটদেরও যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে ইসরোর। সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্তি ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন জোয়ার আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন সময়ের অপেক্ষা, যখন ভারতের সাধারণ নাগরিকেরাও মহাকাশ থেকে নীল গ্রহের সৌন্দর্য দেখার সুযোগ পাবেন।