নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ব্রিজ পার হচ্ছিল ডাম্পার, চোখের পলকে তলিয়ে গেল নদীতে!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ ছিল—গ্রামীণ রাস্তায় কোনোভাবেই ভারী লরি বা ডাম্পার চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু প্রশাসনের সেই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আলিপুরদুয়ারে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিপর্যয়। বালিবোঝাই ডাম্পারের ভার সহ্য করতে না পেরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মুজনাই নদীর উপর থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কংক্রিটের সেতু।
তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ব্রিজ: রবিবার সকালে ফালাকাটা থানার দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড়বেলতলি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের খবর, দেওগাঁও ও জটেশ্বর সংযোগকারী মুজনাই নদীর বাঁকিমের ঘাট সংলগ্ন পুরনো সেতুটি দিয়ে একটি বালিবোঝাই ডাম্পার পার হচ্ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ওজনের চাপে মাঝরাস্তাতেই সেতুটি ভেঙে ডাম্পারটি নদীতে পড়ে যায়। অল্পের জন্য ডাম্পার চালক প্রাণে বাঁচলেও, সেতুর এই ভগ্ন দশা কয়েক হাজার মানুষের জীবন কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বিপাকে হাজার হাজার মানুষ ও পরীক্ষার্থী: এই সেতুটি ছিল দেওগাঁও ও জটেশ্বরের মধ্যে যোগাযোগের মূল লাইফলাইন। প্রতিদিন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া এবং কৃষক এই রাস্তা ব্যবহার করেন। বর্তমানে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা: বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামীণ সেতু দিয়ে অবাধে বালি ও পাথরবোঝাই ডাম্পার চলাচল করলেও প্রশাসন ছিল নির্বিকার। বারবার জানানো সত্ত্বেও নেওয়া হয়নি কোনো কড়া ব্যবস্থা। কোচবিহারের পর আলিপুরদুয়ারের এই পুনরাবৃত্তি রাজ্যের গ্রামীণ অবকাঠামো ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমছে না।