কাঠগোলা বাগানে নবাবীয়ানা! হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল, মুর্শিদাবাদে রাজকীয় উৎসব

মুর্শিদাবাদের গৌরবময় অতীতকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরতে এবং পর্যটকদের জন্য এক রাজকীয় অভিজ্ঞতার ডালি সাজিয়ে শুরু হল ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল’। নবাবী আমলের রাজধানী মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক কাঠগোলা বাগানে ঢাকের আওয়াজ আর আঞ্চলিক নৃত্যের ছন্দে এবছরের উৎসবের সূচনা হয়। গত ১৫ বছর ধরে ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’র উদ্যোগে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে, যা মূলত পর্যটন মানচিত্রে জেলাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আয়োজিত।

এবারের উৎসবের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে দুগ্গার পরিবারের ঐতিহাসিক কাঠগোলা প্রাসাদ ও তার চারপাশের বিশাল বাগান। ইতালীয় স্থাপত্যের স্তম্ভ, মার্বেলের মেঝে এবং রাজকীয় প্রাসাদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্যোক্তাদের অন্যতম লক্ষ্য হল— নবাবী আমলের স্থাপত্য, শিল্পকলা এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্য রসিকতাকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ পর্যটক কাঠগোলা বাগানের এই আভিজাত্য চাক্ষুষ করতে মুর্শিদাবাদে আসেন।

মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সন্দীপ নওলখা জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে শুরু হওয়া এই উৎসবের প্রভাবে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তিন দিনের এই মেলায় নৌকা ভ্রমণ, চিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং চোখধাঁধানো আতশবাজির আয়োজন রাখা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের শিকড় পৌঁছে দিতে এবং হেরিটেজকে বাঁচিয়ে রাখতে এই উৎসব মুর্শিদাবাদকে এক আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।