বিধানসভায় ধুন্ধুমার! রাজ্যপালের নজিরবিহীন কক্ষত্যাগ, বাজেট অধিবেশনে শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি

আজ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেল। তৃতীয় তৃণমূল সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট বা ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশের প্রাক্কালে রাজভবন বনাম নবান্ন সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেল। এদিন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস বিধানসভায় ভাষণ দিতে উঠলেও মাত্র সাড়ে চার মিনিট বক্তব্য রেখেই কক্ষত্যাগ করেন। রাজ্যপালের এই সংক্ষিপ্ত ভাষণ এবং দ্রুত প্রস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু এদিন সরাসরি বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আজকে যা পেশ হতে চলেছে তা স্রেফ ভোট অন অ্যাকাউন্ট, পূর্ণাঙ্গ বাজেট নয়। এই বাজেটের কোনো নৈতিক দায়বদ্ধতা বর্তমান সরকারের নেই।” শুভেন্দুর সাফ দাবি, এই সরকার কার্যত তার সময়সীমা শেষ করে এনেছে এবং আগামী দিনে নতুন সরকার (বিজেপি) ক্ষমতায় এসে প্রকৃত পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে।
এদিন শুভেন্দুর নিশানায় ছিল রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। তিনি দাবি করেন, এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা সামান্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতে পারে, কিন্তু আদতে এই সরকার তা কার্যকর করতে পারবে না। বিরোধী দলনেতার কথায়, “সিভিক ভলেন্টিয়ার বা আশাকর্মীদের যে যৎসামান্য ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, তা তাঁদের সংসার চালানোর জন্য একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তা কার্যকর করার ক্ষমতা এই সরকারের নেই। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলেই মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন হবে এবং এই প্রকল্পগুলি সঠিক অর্থে বাস্তবায়িত হবে।”
বাজেট পেশের দিন শুভেন্দুর এই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ অস্ত্র প্রয়োগ এবং রাজ্যপালের নাটকীয় কক্ষত্যাগ— সব মিলিয়ে আজ বিধানসভা ছিল রণক্ষেত্র। সরকারের শেষবেলার এই বাজেটকে বিরোধী শিবির যে একচুলও জমি ছাড়বে না, তা শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক মেজাজ থেকেই পরিষ্কার।