পার্থর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! দলীয় কোপ কাটিয়ে বিধানসভায় একগুচ্ছ নতুন দায়িত্বে ‘দাদা’!

রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক! দীর্ঘ টালবাহানা এবং জেল-যাত্রার পর ফের সংসদীয় রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরে এলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেল খাটার পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত তিনি। তবে মঙ্গলবার বিধানসভার পক্ষ থেকে যে ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

বিধানসভা সূত্রের খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ‘লাইব্রেরি কমিটি’র সদস্য করার পাশাপাশি ‘অগ্নি নির্বাপন’ এবং ‘বিপর্যয় মোকাবিলা’ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হতে পারেন না। যেহেতু বর্তমানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রিত্ব নেই, তাই একজন সাধারণ বিধায়ক হিসেবে তাঁকে এই দায়িত্বগুলি দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল নিয়ম রক্ষা নয়, বরং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ধীরে ধীরে মূল স্রোতে ফেরার ইঙ্গিত।

গ্রেফতার হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত হয়েছিলেন পার্থ। খোয়াতে হয়েছিল দলের মহাসচিব পদও। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার পর মনে করা হচ্ছিল, পার্থর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একপ্রকার সমাপ্ত। কিন্তু বিধানসভার এই পদপ্রদান সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিল। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফের তাঁকে টিকিট দেবেন তৃণমূল নেত্রী?

শাসক শিবিরের দাবি, এটি নিছকই বিধানসভার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং সংসদীয় রীতি। তবে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই খোঁচা দিতে শুরু করেছে। জামিনে থাকা কালীন তাঁকে কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিজেপি ও বাম শিবির। সব মিলিয়ে, পার্থর এই ‘সেকেন্ড ইনিংস’ বাংলার রাজনীতির পারদ কয়েক ধাপ চড়িয়ে দিল।