সিলিন্ডারের টেনশন শেষ! এবার পাইপলাইনেই মিলছে রান্নার গ্যাস, জলপাইগুড়ির এই গ্রামে খরচ মাত্র ১ কেজি আলুর সমান

রান্নার গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দাম আর সিলিন্ডার বুকিংয়ের ঝক্কি— এই দুই দুশ্চিন্তা থেকে এবার চিরতরে মুক্তি পেলেন জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেড়শো বছরের পুরনো জলপাইগুড়ি শহরকেও যেন অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে এই এলাকা। পানীয় জলের পাইপলাইনের মতোই এখন পাহাড়পুরের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে রান্নার গ্যাস (Piped Natural Gas)।

ইতিমধ্যেই এলাকার বহু বাড়িতে এই পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে এবং মহিলারা জোরকদমে রান্নাও শুরু করেছেন। সিলিন্ডার বয়ে আনা বা ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় এখন অতীত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই গ্যাসের দাম কেজি প্রতি মাত্র ৪৫ টাকা থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে, যা বর্তমান বাজারদরে অত্যন্ত সাশ্রয়ী। শুধু আধুনিক পরিষেবা নয়, পাহাড়পুর এখন শিক্ষা ও পরিকাঠামোতেও অনন্য। মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শুরু করে ঝকঝকে সার্কিট বেঞ্চ— সবকিছুই এখন এই পঞ্চায়েত এলাকার সম্পদ।

যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও পাহাড়পুর এখন ঈর্ষণীয়। বন্দে ভারত থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস— দেশের নামী সব ট্রেন এখন এই এলাকার স্টেশন ছুঁয়ে যায়। পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা রাহুত অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানান, “প্রায় প্রতিটি পরিবারেই পাইপলাইনের গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও আধুনিক করা।” যে শহরে এখনও সিলিন্ডার সরবরাহে ঢিলেমি দেখা যায়, সেখানে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের এই রূপান্তর সত্যিই নজরকাড়া। পাহাড়পুরের এই মডেল এখন রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।