২৫ হাজার দিলেই মিলবে ভর্তি! মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুলের নিরাপত্তা রক্ষীর কাণ্ডে ছিছিঁকার বর্ধমানে

সরকারি স্কুলে ভর্তির নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল বর্ধমান শহর। খোদ বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুলের এক নিরাপত্তা রক্ষীর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীর এমন ‘কীর্তি’ প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক স্তরে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন।

ঠিক কী ঘটেছিল? বর্ধমান শহরের বাসিন্দা মুনিয়া কোলে অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে ওই নামী সরকারি স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য স্কুলের এক নিরাপত্তা রক্ষী ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। মুনিয়া দেবীর দাবি অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সঙ্গে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন ওই কর্মীর হাতে। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় টালবাহানা। ভর্তির বিষয়ে বারবার ফোন করা হলেও কোনও সদুত্তর মিলছিল না। উল্টে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, মার্চ মাসে ভর্তি নিশ্চিত করতে হলে বাকি ২০ হাজার টাকা এখনই দিতে হবে।

বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষী অমিতচুন রায় কার্যত চাপে পড়ে স্বীকার করে নেন যে, তিনি ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপরই বর্ধমান থানার পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সরকারি স্কুলে যেখানে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হওয়ার কথা, সেখানে এক জন চুক্তিভিত্তিক কর্মীর এমন সাহস দেখে স্তম্ভিত অভিভাবক মহল। ঘটনার নেপথ্যে কি বড় কোনও চক্র কাজ করছে? এখন সেই রহস্য উদ্ঘাটনেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা দপ্তরের তরফেও এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।