জেল থেকে বিধানসভায় পার্থ! ছাব্বিশের ভোটের আগে শেষ বাজেটে কোথায় বসবেন ‘সাসপেন্ডেড’ নেতারা?

একুশের নির্বাচনে দুজনেই জিতেছিলেন শাসকদল তৃণমূলের টিকিটে। কিন্তু পাঁচ বছর ঘুরতে না ঘুরতেই রাজনীতির জল গড়িয়েছে অনেক দূর। একজন দীর্ঘ তিন বছর কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত, অন্যজন দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড হয়ে গড়েছেন নিজস্ব দল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট অধিবেশনে এই দুই দাপুটে বিধায়ক— পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীরের বসার আসন কোথায় হবে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তুঙ্গে ছিল জল্পনা। অবশেষে সোমবার সেই জল্পনায় ইতি টানলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বসার আসন বদলাচ্ছে না। দল সাসপেন্ড করলেও বিধানসভার নথিতে তাঁরা এখনও বিধায়ক। একসময় তৃণমূলের মহাসচিব ও দাপুটে মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতারির পর মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। বিধানসভায় এতকাল তাঁর বরাদ্দ আসন ছিল ৭ নম্বর ব্লকের ৫ নম্বর সারির ২৭২ নম্বর সিট। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনেও তিনি সেই পুরোনো আসনেই বসবেন। অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজস্ব দল গড়া হুমায়ুন কবীরকেও তাঁর পুরোনো ২০৯ নম্বর আসনেই দেখা যাবে।

বিধানসভা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে এই হাই-ভোল্টেজ বাজেট অধিবেশন। ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজ্যপালের ভাষণের পর দুপুর আড়াইটে নাগাদ রাজ্য বাজেট পেশ করা হবে। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আশা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচনের আগে শেষ এই অধিবেশনে বিরোধীরা গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবেন। ৬ তারিখ এসআইআর (SIR) নিয়ে বিধানসভায় বিশেষ প্রস্তাব আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন সেই দুই ‘সাসপেন্ডেড’ বিধায়ক, যাঁরা ব্রাত্য হয়েও পুরোনো আসনেই থাকছেন বহাল তবিয়তে।