ভোর হতেই শুরু কর্মযজ্ঞ! বাগদা চিংড়ির জোগান দিয়ে কীভাবে সংসার সামলাচ্ছেন দেবীপুরের নারীরা?

বসিরহাটের কয়েক হাজার মহিলার অদম্য জেদ আজ বিদেশের বাজারে বসিরহাটের গ্রামগুলোতে এখন ভোরের আলো ফোটার আগেই কান পাতলে শোনা যায় এক নীরব বিপ্লবের শব্দ। কোনো বড় কলকারখানা নয়, বরং ঘরোয়া আড্ডার মেজাজে সারি সারি বসে বাগদা চিংড়ির খোসা ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত শত শত মহিলা। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার দেবীপুর, চণ্ডীগড়, আকিপুরের মতো গ্রামগুলোতে এই কাজই এখন মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন কাকভোরে দিঘা থেকে ভ্যান ও ছোট ট্রাকে করে টন টন বাগদা চিংড়ি পৌঁছায় বসিরহাটের আড়তগুলোতে। সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা মাছ পৌঁছে দেন গ্রামের মহিলাদের কাছে। দক্ষ হাতে দ্রুততার সঙ্গে চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে সেগুলিকে প্যাকিংয়ের উপযোগী করে তোলেন তাঁরা। প্রতি কেজি খোসা ছাড়ানোর বিনিময়ে মেলে ৮ থেকে ৯ টাকা। অভিজ্ঞ মহিলারা দিনে অনায়াসেই ১০ থেকে ১২ কেজি মাছের কাজ করেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন উপার্জনের এক স্থায়ী পথ করে দিয়েছে।

এই খোসা ছাড়ানো চিংড়ি কেবল স্থানীয় বাজারে নয়, প্রক্রিয়াকরণের পর পাড়ি দিচ্ছে ভিন রাজ্য এমনকি বিদেশেও। বসিরহাটের মহিলাদের এই নিপুণ পরিশ্রম ছাড়া চিংড়ি রপ্তানি শিল্প কার্যত অচল। সংসারের অভাব মেটানো থেকে শুরু করে সন্তানদের পড়াশোনা—সবই আজ সম্ভব হচ্ছে এই কাজের মাধ্যমে। কোনো প্রচার ছাড়াই নীরবে বসিরহাটের এই লড়াকু নারীরা আজ গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন।