১৮ লাখের চাকরির অফার থুতু মেরে ইউপিএসসি-র টার্গেট! কেবিসির ১ কোটির মঞ্চে খালি হাতে ফিরলেন আইআইটি ছাত্র?

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি)-র ১৮ নম্বর সিজনে নিজের অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছেন ছত্তীসগঢ়ের ২৩ বছরের তরুণ যোগেশ সাহু। আইআইটি বোম্বের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ১৮ লক্ষ টাকার চোখধাঁধানো ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের লোভ সংবরণ করে তিনি বেছে নিয়েছেন ইউপিএসসি-র কঠিন লড়াই। কিন্তু কেবিসির হটসিটে বসে ১ কোটি টাকার চূড়ান্ত ও কঠিনতম প্রশ্নের মুখে পড়ে সামান্য একটি শব্দের মারপ্যাঁচ এবং যুক্তির ভুলে থমকে গেল তাঁর জয়ের রথ। শেষ পর্যন্ত কোনো রকম আর্থিক ঝুঁকি না নিয়ে ৫ লক্ষ নয়, বরং সম্মানজনক ৫০ লক্ষ টাকা জিতেই হাসিমুখে মঞ্চ ছাড়লেন এই প্রতিযোগী।
শোয়ের শুরু থেকেই সঞ্চালক কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনকে নিজের ক্ষুরধার বুদ্ধি ও সাবলীল পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছিলেন যোগেশ। একে একে সমস্ত কঠিন প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি পৌঁছে যান ১ কোটি টাকার মহার্ঘ ধাপে। তবে ততক্ষণে তাঁর পকেটে থাকা সমস্ত ‘লাইফলাইন’ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে সম্পূর্ণ নিজের সাধারণ জ্ঞান এবং উপস্থিত বুদ্ধির ওপর ভর করেই ১ কোটির এই অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।
এদিন ১ কোটি টাকার প্রশ্নটি ছিল: ১৯৪৩ সালে মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে আয়োজিত প্রথম ‘ইন্ডিয়ান ডার্বি’-তে বরোদার মহারাজার মালিকানাধীন কোন ঘোড়াটি জয়ী হয়েছিল? এর জন্য চারটি বিকল্প রাখা হয়েছিল—’প্রিন্সেস বিউটিফুল’, ‘রিগ্যাল ডোমেন’, ‘স্টার অব গোয়ালিয়র’ এবং ‘প্রিন্স প্রদীপ’। প্রশ্ন শুনেই বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করতে গিয়ে যোগেশ ‘এলিমিনেশন’ পদ্ধতি বেছে নেন এবং শুরুতেই ‘প্রিন্সেস বিউটিফুল’ বিকল্পটি সরাসরি বাতিল করে দেন। তাঁর অকাট্য যুক্তি ছিল, প্রশ্নে সুনির্দিষ্টভাবে ‘Horse’ বা পুরুষ ঘোড়ার কথা বলা হয়েছে, অথচ ‘Princess’ শব্দটির উপস্থিতির কারণে এটি একটি ‘Mare’ বা মাদী ঘোড়া বলেই তাঁর মনে হয়েছে। এই বিভ্রান্তির জেরে তিনি ১ কোটি টাকার ঝুঁকি না নিয়ে খেলা ছেড়ে দেওয়ার (Quit) সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সবচেয়ে মজার ও কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, যোগেশ যে অপশনটিকে ভুল ভেবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরুতেই বাদ দিয়েছিলেন, সেই ‘প্রিন্সেস বিউটিফুল’-ই ছিল ওই প্রশ্নের সঠিক উত্তর। পর্বটি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কেবিসি-র প্রশ্নের শব্দচয়ন এবং যোগেশের ওই অদ্ভুত যুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও চর্চা। যদিও শেষ পর্যন্ত ১ কোটি টাকা তাঁর হাতছাড়া হয়েছে, তবুও ছত্তীসগঢ়ের এই কৃতী তরুণের আত্মবিশ্বাস, লড়াই এবং ১৮ লাখের করপোরেট চাকরি ছেড়ে দেশের সেবায় ইউপিএসসি-র মতো কঠিন পরীক্ষার পথ বেছে নেওয়ার অদম্য জেদ সারা দেশের নেটনাগরিকদের মন জয় করে নিয়েছে। ৫০ লক্ষ টাকার মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঝুলিতে পুরেই তিনি কেবিসি-র এই রোমাঞ্চকর অধ্যায়কে বিদায় জানিয়েছেন।