‘বাংলায় আঘাত করলে সারা ভারতবর্ষ হিলিয়ে দেব’, SIR প্রতিবাদ সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে রেখে মঙ্গলবার বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কে প্রতিবাদ সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, সদ্য সমাপ্ত বিহারের নির্বাচনের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি বাংলায় হবে না, কারণ তৃণমূল বিজেপির ‘গেম’ ধরে ফেলেছে।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে ক্ষোভ:

মুখ্যমন্ত্রী এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন এখন নিরপেক্ষ থাকছে না, বরং বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন:

  • “নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষ থাকা। বিজেপির কমিশন হয়ে যাওয়া উচিত নয়।

  • “এখন কী বলছে? যদি জিজ্ঞেস করেন আধার কার্ড? বলবে নো স্যার। প্যান কার্ড? নো স্যার। বিজেপি? ইয়েস স্যার। ইয়েস পাপা, ইয়েস পাপা।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, 2002 সালে ভোটার তালিকা সংশোধনে যেখানে তিন বছর লেগেছিল, সেখানে ভোটের মুখে দু’মাসে এই প্রক্রিয়া চালানোর নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে।

নাগরিকত্ব কার্ডের ‘ফাঁদ’:

মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁয় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সিএএ এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে দেওয়া কার্ড নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন। তিনি অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে দেওয়া ফর্মে বা কার্ডে নাগরিকের ‘পূর্ববর্তী নাগরিকত্ব বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ থাকছে।

মমতা বলেন, “আজকের ডেটে যখন সার্টিফিকেটটা আপনি পাচ্ছেন 2025-এর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে, আপনাকে বাংলাদেশি প্রমাণ করে দিচ্ছে। এটা তো আপনাদের আরও ক্ষতি করছে।” তিনি এই ফাঁদে পা দিয়ে নিজেকে বিদেশি প্রমাণ না-করতে আহ্বান জানান।

দিল্লি দখলের হুঁশিয়ারি:

SIR আতঙ্ক ছড়িয়ে বিজেপি বিহারে ফায়দা লুটলেও বাংলায় তা হবে না বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন:

  • “2029 বোধহয় ভয়ঙ্কর। তোমাদের সরকার থাকবে না… আমার এই বাংলায় আঘাত করলে আমি সারা ভারতবর্ষ নাড়িয়ে দেব।”

  • তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশরা যেমন বাংলা থেকে রাজধানী সরাতে বাধ্য হয়েছিল, তেমনই আগামিদিনে বাংলাই দিল্লি দখল করবে।

  • তিনি জানান, 2026 সালের নির্বাচনের পর তিনি দেশজুড়ে প্রচারে নামবেন।

পাহারাদার মমতা:

অনুপ্রবেশের ইস্যুতে কেন্দ্রের ব্যর্থতাকে দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিএসএফ, রেল এবং বিমানবন্দরের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। তিনি জনগণের উদ্দেশে মানবিক বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা থাকতে আপনাদের তাড়াতে আমি দেব না।” এসআইআর আতঙ্কে বিএলও-সহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি শোকপ্রকাশ করেন।

সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত মিছিলে অংশ নেন।