বনগাঁ পুরসভার নাটকে চরম দড়ি টানাটানি, মমতার সভায় অনুপস্থিত চেয়ারম্যান! বাড়ছে জল্পনা

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় এখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। এক দিকে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) নিয়ে মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কের একাংশের ক্ষোভ, যা অস্বস্তিতে ফেলেছে বিজেপিকে। অন্য দিকে, বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান বদল নিয়ে তৃণমূলের অন্দরের চরম কোন্দল—যা আবার স্বস্তি দিচ্ছে বিজেপিকে। এই পরিস্থিতিতে, আজ মঙ্গলবার বনগাঁয় জনসভা ও পদযাত্রা করতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই শিবিরই এই ‘ঘোলা জলে মাছ ধরতে’ মরিয়া।

‘সার’ নিয়ে মতুয়া ক্ষোভ: জমি পুনরুদ্ধারে তৃণমূল

‘সার’-এর জেরে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁয়। নতুন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে, যা নিয়ে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে। এই হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল।

সূত্রের খবর, গতকাল ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সার’ নিয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বনগাঁর নেতাদের। তিনি মনে করেন, উদ্বিগ্ন মতুয়া সমাজের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর এটিই সুযোগ। সেই বার্তা নিয়েই আজ বনগাঁয় আসছেন মমতা। শহরের ত্রিকোণ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় জনসভা করার পর তিনি গাইঘাটার চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুর নগর অভিমুখে প্রায় তিন কিলোমিটার পদযাত্রায় হাঁটবেন। তাঁর বার্তা হবে—মতুয়াদের নাগরিকত্ব রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই।

বনগাঁ পুরসভার কোন্দল: চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি ও জল্পনা

বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠকে দলীয় নির্দেশ ছিল ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পদত্যাগ করার। কিন্তু ১৪ নভেম্বর তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে চলে যান এবং বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ৯ জন কাউন্সিলর অনাস্থা এনেছেন।

১৮ দিন ধরে চলা এই ডামাডোলে তৃণমূল আড়াআড়ি বিভক্ত— একদিকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা, অন্য দিকে চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ ও তাঁর অনুগামীরা। রাজ্যসভার সাংসদ তথা মতুয়ানেত্রী মমতাবালা ঠাকুর গোপালের পক্ষ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

আজ মুখ্যমন্ত্রীর সভায় গোপাল শেঠ উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনই পুরসভা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেও তাকিয়ে বনগাঁর মানুষ। মমতাবালা ঠাকুর জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বনগাঁ পুরসভার পরিস্থিতি তুলে ধরবেন।

বিজেপির পাল্টা চাল ও প্রস্তুতি

‘সার’ নিয়ে মতুয়াদের ক্ষোভ সামাল দিতে বিজেপি চাইছে চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের ‘বিদ্রোহ’কে কাজে লাগাতে। সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এই আবহে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা থেকে বিজেপির এই পরিকল্পনা বানচাল করার চেষ্টা করবেন।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি সফল করতে তৃণমূলের প্রস্তুতি তুঙ্গে। জেলা তৃণমূল দাবি করেছে, সভা ও পদযাত্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা নিয়ে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর কটাক্ষ করে বলেছেন, “নাটক করে লাভ নেই। মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে নেই। লোক খেপিয়ে লাভ হবে না। মতুয়া উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পাবেন। ভোটার তালিকায় তাঁদেরও নাম উঠবে।”

সব ঠিক থাকলে, মমতার সভার পরই বনগাঁয় রাজ্য বিজেপির কোনও শীর্ষ নেতাকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty