পা বাঁধা, মাথায় আঘাত, কসবা খুনের নেপথ্যে কী? ধৃত অনলাইন ডেলিভারি বয় ও কন্টেন্ট রাইটারের বয়ানে তোলপাড় পুলিশ!

দক্ষিণ কলকাতার কসবার একটি হোটেলের ঘর থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আদর্শ লোসালালকা (Adarsh Losasalaka)-র নগ্ন ও পা বাঁধা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে চাঞ্চল্যকর মোড়। ঘটনার মূল দুই অভিযুক্ত— ধ্রুব মিত্র নামে এক যুবক এবং কামাল সাহা নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে কসবা থানার পুলিশ।
শুক্রবার রাতের এই ঘটনা মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
🏨 কীভাবে ঘটেছিল ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আদর্শ লোসালালকা বাঙুর এলাকায় একাই থাকতেন এবং পেশায় ছিলেন একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট।
হোটেলে আগমন: শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আদর্শ তাঁর সঙ্গী এক যুবক এবং এক তরুণীর সঙ্গে কসবার ওই হোটেলে ওঠেন। একটি অ্যাপের মাধ্যমে দুটি ঘর বুক করা হয়েছিল।
দেহ উদ্ধার: শনিবার হোটেলের একটি ঘর থেকে আদর্শের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর নাক থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছিল এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তাঁর দুটি পা তোয়ালে দিয়ে বাঁধা ছিল।
সঙ্গীদের চম্পট: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আদর্শের সঙ্গী ওই পুরুষ ও মহিলা রাত আড়াইটে নাগাদ হোটেল ছেড়ে হেঁটে কসবা মেইন রোডের দিকে চলে যান।
📱 ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আলাপ, বচসার পর খুন?
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ নিহিত রয়েছে আদর্শ এবং ধৃত দু’জনের পরিচয়ের নেপথ্যে।
পরিচয়: ধৃত ধ্রুব মিত্র একটি অনলাইন ডেলিভারি সংস্থায় কাজ করেন এবং কামাল সাহা পেশায় কনটেন্ট রাইটার। পুলিশি জেরায় জানা যায়, একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে শুক্রবারই ধ্রুব ও কামালের সঙ্গে আদর্শের আলাপ হয়। এরপর সেদিন রাতেই তাঁরা কসবার হোটেলে পৌঁছন।
হাতাহাতি: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হোটেলে পৌঁছনোর পর সম্ভবত কোনও বিষয় নিয়ে আদর্শের সঙ্গে ধ্রুব ও কামালের বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। সেই সময়েই মাথায় আঘাত লেগে মেঝেতে পড়ে যান আদর্শ।
পা বাঁধার কারণ: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা দাবি করেছে, আদর্শ যাতে উঠে তাঁদের উপরে প্রত্যাঘাত করতে না পারেন, সেই কারণেই তাঁর পা তোয়ালে দিয়ে বেঁধে দিয়ে তাঁরা হোটেল ছেড়ে পালিয়ে যান।
🔍 পুলিশের জেরা: রহস্যের জট খুলছে?
ধৃতদের দাবি সত্ত্বেও, আদর্শের মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং তাঁর নগ্ন অবস্থায় দেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পুলিশ এখন মূলত দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে— কী কারণে আদর্শের সঙ্গে ধ্রুব মিত্র ও কামাল সাহার বচসা শুরু হলো? এবং তা কি শুধুমাত্র হাতাহাতি ছিল, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? ধৃতদের জেরা করে এই রহস্যের জট খোলার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই আদর্শের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।