বিল সইয়ের ক্ষমতা ‘অক্ষুণ্ণ’ রাখা জরুরি! কেন রাজ্যপাল-রাষ্ট্রপতির জন্য টাইমলাইন বেঁধে দিতে রাজি নয় সুপ্রিম কোর্ট? জেনে নিন সাংবিধানিক ব্যাখ্যা

কোনও বিলে সম্মতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যাবে না। এক ঐতিহাসিক রায়ে এমনই জানাল সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চ। তবে, যদি কোনও রাজ্যপাল বিলটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখেন, তাহলে তা অবশ্যই বিধানসভায় ফেরত পাঠানো উচিত— স্পষ্ট জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

রাষ্ট্রপতির তরফে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বিল অনুমোদনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর চেয়ে চিঠি লেখা হয়েছিল। সেই ‘প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স’ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের (প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের পরিবর্তে সঠিক তথ্য দেওয়া হলো: এই বেঞ্চে মূলত প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নির্দেশে এই বেঞ্চ গঠিত হয়েছিল) নির্দেশে গঠিত হয় সাংবিধানিক বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চে বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি এএস চন্দরকর ছিলেন।

রাজ্যপালের তিনটি বিকল্প ও বিচক্ষণতা:

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় সাংবিধানিক বেঞ্চ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে যে, রাজ্য বিধানসভায় বিল পাস হওয়ার পর তা কী পদ্ধতিতে আইন হিসেবে অনুমোদিত হয়। শীর্ষ আদালত সংবিধানের ২০০ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেছে:

তিনটি বিকল্প: নতুন বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের কাছে তিনটি বিকল্প থাকে— ১. বিলটিতে সই করা, ২. বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো এবং ৩. সম্মতি না দিয়ে বিলটি বিধানসভায় ফেরত পাঠানো।

বিচক্ষণতা: আদালত জানিয়েছে, রাজ্যপাল নিজস্ব বিচক্ষণতা ব্যবহার করে বিলটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারেন। এই বিষয়ে তিনি মন্ত্রিসভার কাউন্সিলের পরামর্শ শুনতে বাধ্য নন।

নিষ্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপ:

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি তাঁদের কাজ কীভাবে করবেন, তা সাধারণত আদালতে বিচারযোগ্য নয়। তবে, বেঞ্চ এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছে:

“যদি কোনও বিল দীর্ঘদিন ধরে বিনা কারণে বা বিনা যুক্তিতে রাজ্যপালের কাছে পড়ে থাকে (নিষ্ক্রিয়তা), তাহলে সেই বিষয়ে আদালত তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ জারি করতে পারে।”

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের কাজের উপর সাধারণত বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ করা যায় না। তবে দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ক্রিয়তা থাকলে সাংবিধানিক আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৬১ অনুচ্ছেদ আদালতের ক্ষমতাকে আড়াল করতে পারবে না।

আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিল আইনে পরিণত না হলে রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। একই সঙ্গে, আগে বিল সইয়ের জন্য টাইমলাইন বেঁধে দেওয়া রায়কে ‘ক্ষমতা হরণ করার শামিল’ বলে উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, এমনভাবে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত নয়।