কফি কি সত্যিই ‘মিরাকেল ড্রাগ’? প্রতিদিন কফি পানের ফলে শরীর ও মস্তিষ্কে কী অলৌকিক পরিবর্তন আসে, জানুন!

ধূমায়িত এক কাপ কফি পান করে দিনের শুরু করেন অনেকে। কফিতে থাকা স্ট্রং ক্যাফেইন শরীরকে চাঙ্গা ও ফুরফুরে রাখার পাশাপাশি আরও নানা প্রভাব তৈরি করে। বিজ্ঞদের মতে কফি হলো ‘মিরাকেল ড্রাগ’, যা আশ্চর্যজনকভাবেই রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু সমস্যাও ডেকে আনতে পারে।
কফি পানের ইতিবাচক প্রভাব:
১. শরীরকে সুস্থ রাখে ও রোগের ঝুঁকি কমায়:
ডায়েটেশিয়ান কনসালটেন্ট বেথ উইদারস্পুন জানান, পরিমিত মাত্রায় প্রতিদিন কফি পানের ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, পারকিনসন ডিজিজ, ডিমেনশিয়া, লিভার সিরোসিস ও বিশেষ কয়েক ধরণের ক্যান্সার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
সিনিয়র হেলথ অ্যাডভাইজর জ্যানেট রিচ পিটম্যানের মতে, ব্ল্যাক কফি সবচেয়ে বেশি উপকারী, কারণ এতে ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি পাওয়া যায়।
২. মন ভালো রাখে ও হতাশা কমায়:
কফিতে থাকা ক্যাফেইনের সঙ্গে মস্তিষ্কের সরাসরি সংযোগ আছে। এটি মস্তিষ্কের উপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে, যার ফলে অ্যালার্টনেস, মনোযোগ ও মনমেজাজে পরিবর্তন আসে।
২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত তিন কাপ কফি পানে আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাস পায় ৪৫ শতাংশ। একই সঙ্গে কমে মানসিক বিষণ্ণতা, হতাশা ও দুশ্চিন্তাও।
৩. ভুলে যাওয়ার সমস্যা কমায়:
ক্যাফেইন অ্যালার্টনেস, অ্যাটেনশন, কনসেন্ট্রেশন ও মুড ভালো রাখার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ভালো রাখার ক্ষেত্রেও ভালো কাজ করে।
‘ন্যাচার নিউরোসায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যাফেইন মানুষের দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিগুলোকে একত্রে সংরক্ষণে কাজ করে।
অতিরিক্ত কফি পানের নেতিবাচক দিক (Over-consumption):
১. মানসিক ও ঘুমের সমস্যা: অতিরিক্ত কফি পানের ফলে অনেকেই মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, প্যানিক অ্যাটাক, ঘুমের সমস্যা, ইনসমনিয়ার (Insomnia) মতো সমস্যায় আক্রান্ত হন। ক্যাফেইনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির ফলে এমনটা হয়ে থাকে।
২. ক্যাফেইন উইথড্রওয়াল (Caffeine Withdrawal): আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ক্যাফেইন গ্রহণের ১২-২৪ ঘন্টার ভেতর পুনরায় ক্যাফেইন গ্রহণ করা না হলে শরীর ক্যাফেইন গ্রহণের জন্য নানান ধরণের লক্ষণ প্রকাশ করা শুরু করে। এই সমস্যাটিকে ‘ক্যাফেইন উইথড্রওয়াল’ বলা হয়, যা ২৪-৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।