পরনিন্দা মোটেও ‘খারাপ কাজ’ নয়! গবেষণা বলছে, গসিপ আপনার রাগ কমায় ও মন হালকা করে— জানুন কেন!

সাধারণত পরনিন্দা বা গসিপকে খারাপ কাজ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে সম্পূর্ণ অন্য কথা! গবেষকদের দাবি, পরচর্চা করা বা অন্যের নামে আলোচনা করা একেবারেই খারাপ নয়, বরং এর বেশ কিছু মানসিক উপকারিতা রয়েছে। তবে শর্ত একটাই— আপনার গসিপের মাধ্যমে যেন কারও ক্ষতি না হয়।
মানসিক চাপ কমানোর অব্যর্থ দাওয়াই:
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পরচর্চা বা গসিপ করলে রাগ, আক্রোশ ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে মুক্তি মেলে। গবেষকরা বলছেন, জীবনের অপ্রিয় বা বিরক্তিকর মানুষদের নিয়ে রাগ মনে চেপে না রেখে বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করলে ক্রোধ কমে। এর ফলে আপনি মানসিকভাবে হালকা অনুভব করবেন এবং মানসিক চাপ (Stress) অনেকটাই হ্রাস পাবে। পরচর্চাকে গবেষকরা একধরনের ‘স্ট্রেস বাস্টার’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়:
যারা গসিপ শোনেন, তাদের মস্তিষ্কে কী ঘটে? সোশ্যাল নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণা এই বিষয়ে আলোকপাত করেছে। বিজ্ঞানীরা নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের ইমেজিং করে দেখেছেন, যখন তারা তাদের প্রিয় বন্ধু বা সেলিব্রিটিদের সম্পর্কে ইতিবাচক ও নেতিবাচক গসিপ শোনেন, তখন তাদের মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
শিক্ষা ও সচেতনতা:
গবেষকদের মতে, পরচর্চা করার একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো অন্যের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া। অন্যের ভুল নিয়ে আলোচনা করলে সচেতনতা বাড়ে, এবং আপনি নিজে ভবিষ্যতে সেই ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে পারেন।
তবে গসিপ করার সময় কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি:
ক্ষতি না করা: যার বিষয়ে আলোচনা করছেন, তার যেন কোনো ক্ষতি না হয়।
শব্দ চয়ন: পরচর্চার সময় খারাপ বা আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সচেতনভাবে শব্দ প্রয়োগ করুন।
অফিসের গসিপ: কর্মক্ষেত্রে গসিপের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। পরিস্থিতি বুঝে এবং নিজে সচেতন থেকে তবেই এতে অংশ নিন।
অনর্থক গসিপ এড়িয়ে চলুন: গবেষকরা বলছেন, কারও চেহারা বা ফিটনেস নিয়ে মূল্যহীন মন্তব্য বা নেতিবাচক গসিপ এড়িয়ে চলা উচিত। এমন গসিপে কেউ উপকৃত হয় না বা কোনো শিক্ষাও পাওয়া যায় না।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে, পরচর্চার ক্ষেত্রে নারীরা (৬৭%) পুরুষের (৫৫%) চেয়ে কিছুটা এগিয়ে। তবে ২০১৯ সালের মেটা-বিশ্লেষণের উদাহরণ বলছে, গসিপের তিন-চতুর্থাংশই সাধারণত নিরপেক্ষ হয়ে থাকে, যা মোটেও নেতিবাচক বা ক্ষতিকর নয়।