সুন্দরবন ভ্রমণে সাময়িক ছেদ! ১১ ও ১২ ডিসেম্বর বন্ধ থাকবে জঙ্গল ও জলপথ, শুরু হচ্ছে বাঘশুমারি ২০২৫

শীতকাল শুরু হতেই সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ ও ১২ ডিসেম্বর দুই দিনের জন্য সুন্দরবনের জঙ্গল ও জলপথ পর্যটকদের জন্য সাময়িক বিরতি নেবে। এই সময়ে শুরু হবে বাঘশুমারি ২০২৫, যা সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অভিযান।

বন দফতরের নির্দেশিকা: রাজ্য বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ওই দু’দিন কোনও পর্যটক, লঞ্চ, হাউসবোট বা প্রাইভেট নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না। বাঘের সঠিক গণনা ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের জন্য জঙ্গলকে সম্পূর্ণ শব্দহীন ও পর্যটকমুক্ত রাখা জরুরি। ইতিমধ্যেই সকল অনলাইন বুকিং বাতিল ও বন্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে।

বাঘশুমারিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিনস জানান, এটি একটি সুপরিকল্পিত ও বিজ্ঞাননির্ভর প্রক্রিয়া। নির্ভুল তথ্য পেতে এবার রেকর্ড সংখ্যক ১৪৮৪টি ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো হবে, যা প্রায় ৪১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে।

শনাক্তকরণ: ক্যামেরা ট্র্যাপে তোলা ছবিতে বাঘের ডোরাকাটা দাগের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি বাঘকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা হবে।

ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ: প্রথমবারের মতো একটি ডিজিটাল মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে বনকর্মীরা পায়ের ছাপ, প্রাণীর চিহ্ন এবং ক্যামেরা ডেটা সহ রোজের সমস্ত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠাতে পারবেন, যা দ্রুত ও নির্ভুল বিশ্লেষণে সাহায্য করবে।

বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বিশ্লেষণ: এবারের শুমারিতে শুধু বাঘের সংখ্যা নয়, তাদের খাদ্যশৃঙ্খলের উপরও বিশেষ নজর রাখা হবে। অর্থাৎ হরিণ, চিতল, বন্য শুকর এবং অন্যান্য শিকার প্রাণীর উপস্থিতি ও সংখ্যার ভারসাম্যও সমীক্ষা করা হবে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনা, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও টহল কৌশল নির্ধারণ করা হবে।