‘বন্দে মাতরম’-বিরোধীরা আসলে নতুন ‘জিন্নাহ’! যোগীর কড়া হুঁশিয়ারি, দেশে ঐক্যের ডাক

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সোমবার গোরখপুরে আয়োজিত ‘একতা যাত্রা’ কর্মসূচিতে দেশের ঐক্য, দেশভক্তি ও জাতীয় সংহতির উপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন সেই শক্তিগুলিকে, যারা আজও জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে আপত্তি জানায়। যোগীর মতে, এই মানসিকতা ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি আঘাত।
তিনি স্পষ্ট জানান, “যারা ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে আপত্তি জানায়, তারা আসলে ভারতের ঐক্য ও সংহতিকে অপমান করছে। ভারতবর্ষে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির প্রতি অটল আনুগত্য প্রদর্শন করা কর্তব্য।”
বক্তব্যে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে যোগী অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের দুই নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ ও মহম্মদ আলি জওহরের নাম উল্লেখ করেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, “আজ আমাদের দায়িত্ব হল জাত, ধর্ম, ভাষা বা প্রদেশের নামে সমাজে বিভাজন সৃষ্টিকারী শক্তিকে চিহ্নিত করা ও তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো। এই বিভাজনের রাজনীতি আসলে নতুন জিন্নাহ তৈরি করার ষড়যন্ত্র।” মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “যদি কেউ জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সাহস দেখায়, তবে সেই বিভাজনমূলক চিন্তাকে শিকড় গাড়ার আগেই সমাধিস্থ করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বক্তব্য জাতীয়তাবাদী আবেগকে উসকে দেওয়ার একটি কৌশল। গোরখপুরের জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ তখন ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে মুখরিত হয়। যোগীর বার্তা— ধর্ম, ভাষা বা প্রদেশের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, একটাই পরিচয়, আমরা ভারতবাসী।