আরএসএস নিষিদ্ধের দাবি, শতবর্ষের কর্মসূচি ঠেকাতে মরিয়া কর্নাটক সরকার! পাল্টা বিমানবন্দরে ‘নমাজ’ বিতর্ক তুলল বিজেপি

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি পালনে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার অনুমতি না দেওয়ায় তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ হলো। এই বিষয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে আরএসএস এবং কর্নাটক সরকার আদালত থেকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এই ইস্যুতে এবার কংগ্রেস সরকারকে চেপে ধরেছে রাজ্য বিজেপি। বেঙ্গালুরুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Kempegowda International Airport) মুসলিম যাত্রীদের নমাজ পাঠের ছবি পোস্ট করে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র বিজয় প্রসাদ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং রাজ্য সরকারের কাছে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন: আরএসএসকে যখন সরকারি জায়গায় কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, তখন অন্য একটি ধর্মের লোকেরা কী করে সরকারি বিমানবন্দরে উপাসনা করতে পারে?
আরএসএসকে ঠেকানোর চেষ্টা ও আইনি জটিলতা:
সরকারি নিষেধাজ্ঞা: আরএসএস-এর শতবর্ষের কর্মসূচি ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সরকার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে নির্দেশ জারি করে যে কোনো সরকারি প্রেক্ষাগৃহ, মাঠ, ময়দান বা রাস্তায় আরএসএসকে কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না।
মন্ত্রীদের অবস্থান: মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গের (কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পুত্র) পরামর্শ ছিল যে আরএসএস বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচার চালায় এবং দেশের সম্প্রীতি ও সংহতির পরিপন্থী, তাই তাদের রাজ্যে কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া উচিত নয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও আরএসএসকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি তুলেছেন।
আদালতের নির্দেশ: আরএসএস-এর আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ সরকারি নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। কর্নাটক সরকার ডিভিশন বেঞ্চে গেলেও উচ্চতর বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি, বরং সরকারকে ফের সিঙ্গল বেঞ্চে আবেদন করতে বলেছে।
বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন: আরএসএসকে নিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই বিমানবন্দরের ওই নমাজ পাঠের ছবি ভাইরাল হয়। বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে সব ধর্মের যাত্রীদের উপাসনার জন্য পৃথক জায়গা বরাদ্দ আছে। বিজেপি মুখপাত্র বিজয় প্রসাদ সমাজ মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করে পালটা প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গের অনুমতি নিয়ে কি নমাজ পাঠ হচ্ছে? এই বিষয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন তিনি। যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা কর্নাটক সরকার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।