মুম্বই-লন্ডন এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটে ৭ ঘণ্টার বিলম্ব, যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে রাতভর ভোগান্তি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ

মুম্বই থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট (AI129) যান্ত্রিক গোলযোগের (Technical Issues) কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা পরে শনিবার দুপুরে উড়ল। মূলত সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বিমানটি ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি দুপুর ১টা নাগাদ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়। এই দীর্ঘ বিলম্বের জেরে রাতভর না ঘুমিয়ে যাত্রা করতে আসা বহু যাত্রী বিমানবন্দরে ক্ষোভ উগরে দেন।
যাত্রীদের দুর্ভোগ ও এয়ার ইন্ডিয়ার বক্তব্য
যাত্রীদের বোর্ডিং শুরু হয় সকাল ৬টার কিছু আগে, প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে। বিমানে ওঠার পরও যাত্রীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা বসেছিলেন। এরপর পাইলট টেকনিক্যাল সমস্যার কথা ঘোষণা করে সকলকে নামিয়ে দেন। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে যাত্রীদের নামানো হয় এবং তাঁদের হ্যান্ড ব্যাগেজ পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে দুপুর ১২টায় উড়ানের সময় জানানো হলেও পরে তা দুপুর ১টা করা হয়।
বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা অভিযোগ করেন যে, পুরো সময়টায় এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) তরফে স্পষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি এবং খাবার ও পানীয় পরিবেশনেও দেরি করা হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “বিমানটির টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে দেরি হয়েছে। সমস্ত যাত্রীদের খাবার ও জল সরবরাহ করা হয়েছে।”
আগের দিনও ছিল এটিসি গোলযোগ
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) সিস্টেমে গোলযোগের জেরে গোটা দেশের বিমান পরিষেবা আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। প্রায় ৮০০টিরও বেশি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়, যার প্রভাব মুম্বই, জয়পুর ও লখনউতেও পড়েছিল।
এছাড়াও, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর দিল্লিতে গত সপ্তাহেও সন্দেহজনক জিপিএস স্পুফিংয়ের ঘটনায় একাধিক ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করতে হয়েছিল। জিপিএস স্পুফিং হলো ভুয়ো স্যাটেলাইট সংকেত পাঠিয়ে বিমান পরিচালনা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা। এটি এখন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলছে।