৭৫-এ থেমে গেল সুকণ্ঠের পথচলা, হিন্দি-বাংলায় গান গাওয়া সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের জীবনাবসান, শোকস্তব্ধ শিল্প মহল

সাত দশকের সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী এবং নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের জীবনাবসান হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
তাঁর ভাই ললিত পণ্ডিত জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সুলক্ষ্মণা পণ্ডিত শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিনয় ও সঙ্গীত জগতে অবদান: সুলক্ষ্মণা পণ্ডিত তাঁর ফিল্মি জীবন শুরু করেন ১৯৭৫ সালে সঞ্জীব কুমারের বিপরীতে ‘উলঝন’ ছবিটির মাধ্যমে। এরপর ‘চেহেরে পে চেহারা’, ‘সঙ্কোচ’, ‘হেরা ফেরি’, ‘ধরমকাঁটা’-এর মতো বহু সফল ছবিতে তিনি অভিনয় করেন এবং রাজেশ খান্না, শশী কাপুর, জিতেন্দ্র, শত্রুঘ্ন সিনহা ও বিনোদ খান্নার মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিজের অভিনীত ছবির গান নিজেই গাইতেন।
তাঁর অভিনয় জীবনের একটি বিশেষ দিক হলো ১৯৭৮ সালের দ্বিভাষিক ছবি ‘বন্দি’, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন স্বয়ং উত্তম কুমার। আলো সরকার পরিচালিত এবং শ্যামল মিত্র সঙ্গীত পরিচালনায় তৈরি এই ছবিটি বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষাতেই সুপারডুপার হিট হয়েছিল, যেখানে শ্যামল মিত্র ও সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের একটি বিশেষ ডুয়েট গান ছিল।
হরিয়ানার হিসার নিবাসী সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের পরিবার মূলত সঙ্গীত জগতের সঙ্গে যুক্ত। তিনি হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, ওড়িয়া এবং গুজরাটি সহ একাধিক ভাষায় গান গেয়েছেন। বিখ্যাত পন্ডিত যশরাজ তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এবং তাঁর দুই ভাই প্রয়াত সুরকার যতীন-ললিত। প্রয়াত অভিনেত্রীর ছোট বোন হলেন আরেক পরিচিত মুখ, বিজয়েতা পণ্ডিত। ১৯৫৪ সালের ১২ জুলাই ছত্তীসগড়ের রায়গড়ে তাঁর জন্ম।