‘সর্দার প্যাটেলকে বাধা দিয়েছিলেন নেহেরুজি’! কাশ্মীরকে সম্পূর্ণ ভারতের অংশ না করার জন্য কংগ্রেসের ভুল ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছিল ৩১ অক্টোবর। ঠিক এই দিনটিকেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’ হিসাবে পালন করছে কেন্দ্র। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে গুজরাটের নর্মদা জেলার কেভাড়িয়ায় ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’র পাদদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন প্যাটেলকে সম্পূর্ণ কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে না দেওয়ার জন্য দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সমালোচনা করেন।
নেহেরুর বাধা: কাশ্মীর সমস্যা
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যের মূল অংশে সরাসরি কাশ্মীর সমস্যার জন্য কংগ্রেসের নীতিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন:
“সর্দার প্যাটেল অন্যান্য রাজ্যগুলির মতোই সমগ্র কাশ্মীরকে ভারতের অংশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নেহেরুজি তাতে বাধা দিয়েছিলেন। কাশ্মীর বিভক্ত করা হয়েছিল, একটি পৃথক সংবিধান এবং একটি পৃথক পতাকা দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসের এই ভুলের জন্য দেশকে দশকের পর দশক ধরে কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।”
তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের এই ‘মেরুদণ্ডহীন’ আচরণের ফলেই কাশ্মীর সমস্যা, উত্তর-পূর্বে দেশের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং এমনকি নকশাল-মাওবাদী সন্ত্রাসের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি তৈরি হয়েছে।
নেতৃত্বের উত্তরাধিকারকে দুর্বল করার চেষ্টা
শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর মোদী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব যাদের উপর অর্পিত হয়েছিল, তারা ‘আমরা জনগণ’-এর চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, “ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তি ও সংগঠনগুলিকে অসম্মানিত করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।”
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকলেই জানি কংগ্রেস সরকার সর্দার প্যাটেল এবং তাঁর উত্তরাধিকারের সাথে কী আচরণ করেছিল! বাবা সাহেব আম্বেদকরের জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর পরেও কীভাবে আচরণ করেছিল এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, ডঃ রাম মনোহর লোহিয়া এবং জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো নেতাদের কীভাবে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি আরএসএস-এর ১০০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সংগঠনটিকেও একইভাবে টার্গেট করা হয়ে আসছে।