নির্বাচনের জেরে উচ্চ মাধ্যমিকের দিনক্ষণ এগিয়ে আসায় চরম উদ্বেগ! হাতে মাত্র ৯০ দিন, কীভাবে শেষ হবে দ্বাদশের পূর্ণ সিলেবাস?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক (HS) চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষার দিনক্ষণ এগিয়ে আসায় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতিটি সেমিস্টারের আগে ছয় মাসের পঠন-পাঠন সময় পাওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি ছুটি এবং নির্বাচনের কারণে হাতে মাত্র প্রায় ৯০ দিন ক্লাস করার সময় থাকবে।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখটি দেখানো হয়েছে, যেখানে স্কুলগুলোতে সরকারি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সম্ভবত ২৫ অক্টোবর থেকে। নভেম্বরের শুরুতে মাধ্যমিক সম্পর্কিত পরীক্ষাও থাকায় ক্লাসে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা বলছেন, এত কম সময়ে নতুন সিলেবাস অনুযায়ী থিওরি, প্র্যাকটিক্যাল এবং প্রজেক্টের কাজ পুরো করা প্রায় অসম্ভব। বিশেষত বিজ্ঞান বিষয়ে, যেখানে ল্যাবভিত্তিক কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থীই অনুভব করছেন, এই পরিস্থিতিতে সিলেবাস শেষ করতে তাঁদেরকেই বাড়তি ভূমিকা নিয়ে এগোতে হবে। অভিভাবকরা শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সংসদের বক্তব্য ও দ্রুত প্রস্তুতির কৌশল
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) এর সচিব পড়ুয়াদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে পরীক্ষার সময় বা সিলেবাস পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তবে সংসদের সভাপতি আশ্বাস দিয়েছেন যে, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি বিবেচনা করা হবে।

যেহেতু সময়সূচি বদলের সম্ভাবনা কম, তাই শিক্ষার্থীদের দ্রুত প্রস্তুতির জন্য নিম্নলিখিত কৌশলগুলি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:

গুরুত্বপূর্ণ টপিক নির্ধারণ: পরীক্ষার নোটিশ অনুযায়ী কন্টেন্টের গুরুত্ব বুঝে প্রথমে জেনেরিক ও উচ্চ ওয়েটেজের অধ্যায়গুলো কভার করতে হবে।

প্র্যাকটিক্যাল ও প্রজেক্টের জন্য সময়: প্রজেক্ট কাজ আলাদা ব্লক করে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। গ্রুপভিত্তিক ভাগ করা কাজ দ্রুত ফল দিতে পারে।

টার্গেটেড প্র্যাকটিস: পুরনো প্রশ্নপত্র ও নতুন প্রশ্ন প্যাটার্ন দেখে দ্রুত টার্গেটেড প্র্যাকটিস শুরু করা দরকার।

সংসদ ইতোমধ্যে অফিসিয়াল রুটিন, প্রশ্ন প্যাটার্ন এবং সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের নির্দেশ মেনে এবং সব রকম আপডেট মনোযোগ দিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বোঝাপড়া ও সুপরিকল্পিত রুটিন মেনে চললে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা যায়।