বিজেপি বনাম কংগ্রেস, জাত গণনায় ‘মনুবাদের’ অভিযোগ তুললেন সিদ্দারামাইয়া, পাল্টা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’র তোপ বিজেপির!

কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারের চলমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত সমীক্ষা (যা মূলত জাত শুমারি নামে পরিচিত) নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা চলছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার অভিযোগের মুখে কর্ণাটক বিজেপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

রাজ্য বিজেপি প্রধান বি ওয়াই বিজয়েন্দ্র পরিষ্কার জানিয়েছেন যে তাঁরা জাতিভিত্তিক শুমারির বিরুদ্ধে নন, তবে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ খেলার চেষ্টা করছে—তাতেই তাঁদের আপত্তি।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, শুমারির বিরোধিতা করে বিজেপি নেতারা আসলে তাঁদের ‘মনুবাদী মানসিকতা’ প্রকাশ করছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি চায় না যে সম্পদ, সুযোগ এবং প্রতিনিধিত্ব নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী পরিবারের হাত থেকে বেরিয়ে সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হোক। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন বিহারের জোট সরকার (যেখানে বিজেপি অংশীদার ছিল) এবং কেন্দ্রীয় সরকারও জাতি শুমারি করার পরিকল্পনা করছে, তখন কর্ণাটকের শুমারির বিরোধিতা কেন?

এই বিতর্কের মধ্যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এবং সাংসদ তেজস্বী সূর্য সহ বিজেপি নেতারা জনগণকে এই সমীক্ষায় অংশ না নেওয়ার জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, সরকার অহেতুক ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোকের অভিযোগ, এই সমীক্ষা তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে এবং এর উদ্দেশ্য হল কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে সরকারের আর্থিক দেউলিয়া অবস্থা লুকানো।

এই পরিস্থিতিতে, কংগ্রেস দল বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং সিদ্দারামাইয়া রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদন করেছেন, যেন তাঁরা বিজেপির “রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বক্তব্যে কান না দিয়ে শুমারিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন।