‘নিউক্লিয়ার হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতিই আসল প্রতিরোধ’, সামরিক নার্সিং সার্ভিস-এর শতবর্ষ অনুষ্ঠানে সিডিএস-এর বড় বার্তা

চীফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান মঙ্গলবার জোরালোভাবে বলেন যে, ভারত কোনো পরমাণু ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে তিনি জোর দেন যে, দেশের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলের অপরিহার্য অংশ হিসেবে তেজস্ক্রিয় দূষণ এবং জৈব-হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক।

দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের মানেকশ সেন্টারে মিলিটারি নার্সিং সার্ভিস (MNS)-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিজ্ঞান অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় জেনারেল চৌহান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিন্দূর’-এর পরের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন: “যদিও আমাদের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের সম্ভাবনা কম, তবুও এটি আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তেজস্ক্রিয় দূষণের জন্য ভিন্ন চিকিৎসা প্রোটোকল প্রয়োজন এবং এটি আমাদের প্রশিক্ষণের অংশ হতে হবে। পারমাণবিক হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতিই এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।”

সিডিএস জোর দিয়ে বলেন যে, পারমাণবিক এবং জৈবিক জরুরি পরিস্থিতিগুলির জন্য বিশেষ চিকিৎসা ও অপারেশনাল প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এই ধরনের হুমকি থেকে আত্মরক্ষা এবং সংক্রামিত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ভিন্ন প্রোটোকল প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।” কোভিড-১৯ মহামারী দেখিয়েছে যে প্রাকৃতিক, দুর্ঘটনাজনিত বা মানবসৃষ্ট জৈবিক বিপদগুলি কত দ্রুত বাড়তে পারে, সেকথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জেনারেল চৌহান চলতি বছর ১০০ বছর পূর্তি করা মিলিটারী নার্সিং সার্ভিসের অবদানেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংঘাত, মানবিক অভিযান, এবং নৌ ও বিমান প্ল্যাটফর্মগুলিতে MNS সামনের সারিতে থেকেছে। তারা কেবল চিকিৎসা নয়, মানসিক শান্তিও জুগিয়েছে। তিনি বলেন, “নার্সরা হল স্বাস্থ্যসেবার হৃদস্পন্দন, তারা কেবল শুশ্রূষা দেয় না। যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন তারা আশা, আরাম এবং সহানুভূতি নিয়ে আসে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও আমাদের কর্তব্য।”

তিনটি পরিষেবার মধ্যে আরও বেশি ‘যৌথতা’ (Jointness) আনার আহ্বান জানিয়ে জেনারেল চৌহান বলেন, MNS যেভাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীতে নির্বিঘ্নে কাজ করে, তা সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ের জন্য একটি মডেল হওয়া উচিত। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পরিষেবাটি আজ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর এক অপরিহার্য অঙ্গ। তাদের শতবর্ষ উদযাপন সামরিক ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা প্রস্তুতির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।