ভারতে ‘অপরাধ-বিস্ফোরণ’! প্রতি ৫ সেকেন্ডে একটি অপরাধ, কিন্তু চমক দিল কলকাতা!

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর প্রকাশিত ‘ক্রাইম ইন ইন্ডিয়া ২০২৩’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ভারতে অপরাধের সংখ্যায় নজিরবিহীন বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে অপরাধের পরিমাণ বেড়েছে ৭.২ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে মোট ৬২.৪ লক্ষ অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৫ সেকেন্ডে একটি অপরাধ ঘটেছে।

যদিও খুন এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা বছর দুয়েক আগে কম ছিল, তবে সাইবার অপরাধ এবং নির্দিষ্ট কিছু ধারার অপরাধে বৃদ্ধি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

অপরাধের ধারায় নাটকীয় পরিবর্তন:

এনসিআরবি-র তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং বিশেষ ও স্থানীয় আইন (SLL) উভয় ক্ষেত্রেই মামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি দেখা গেছে:

অপরাধের বিভাগবৃদ্ধির হার (২০২৩)
সাইবার অপরাধ+ ৩১.২%
তফসিলি জনজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ+ ২৮.৮%
শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ+ ৯.২%
বেপরোয়া গাড়ি চালানো(দ্রুততম বৃদ্ধি)
স্বামী বা আত্মীয়ের দ্বারা নিষ্ঠুরতা+ ৯.৬%
জালিয়াতি, প্রতারণা, ভুয়ো নথি+ ৬.২%

তবে স্বস্তির খবর, হত্যা (কমলো ২.৮%) এবং ধর্ষণের ঘটনা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধও কমেছে ১৩.২%

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এই তথ্যগুলি ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC)-এর আওতায় শেষ পূর্ণ বছরের অপরাধ সংক্রান্ত। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হয়েছে।

জাতিগত হিংসার বলি মণিপুর, সবার শীর্ষে:

রাজ্যভিত্তিক তথ্যে তফসিলি উপজাতিদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে মণিপুর। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা জাতিগত হিংসার কারণে সেখানে ৩,৩৯৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশ (২,৮৫৮টি মামলা) এবং রাজস্থান (২,৪৫৩টি মামলা)

চার্জশিট দাখিলে কলকাতাই সেরা:

যদিও অপরাধের হার বেড়েছে, তবে মেট্রোপলিটন শহরগুলির আইনি প্রক্রিয়ায় সাফল্যের হার চমকপ্রদ। ১৯টি মহানগর শহরের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের হারে শীর্ষ ৩ স্থানে রয়েছে— কোচি (৯৭.২%), কলকাতা (৯৪.৭%) এবং পুনে (৯৪%)। এই শহরগুলিতে মোট ৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৪ লক্ষ ৯০ হাজার ২৯৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। দেশের বিচার প্রক্রিয়ায় কলকাতা ও কোচির এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।