তৃণমূলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরই হাবড়ায় বড় আলোড়ন! ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছাড়ছেন বর্ষীয়ান নেতা সীতাংশু দাস, কেন এই সিদ্ধান্ত?

বারাসত জেলা কমিটি ঘোষণার পরই তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আভাস, প্রশ্ন ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি নিয়ে

হাবড়া: বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন ব্লক ও টাউন কমিটি ঘোষণার পরই হাবড়ায় তৃণমূলের অন্দরে জোরালো রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই আবহের মধ্যেই হাবড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা সীতাংশু দাস ওরফে ঝন্টু। তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে এখন তীব্র জল্পনা চলছে।

পদত্যাগের নেপথ্যে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ বিতর্ক
স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২২ সালের পুরভোটে ১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হওয়ার পর সীতাংশু দাসকে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়। পাশাপাশি, তিনি এতদিন ধরে হাবড়া শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন।

নতুন সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই টানাপোড়েন চলছিল—কে হবেন শহর সভাপতি। দলের একাংশ চাইছিল সীতাংশুবাবুই থাকুন, কিন্তু অন্য একটি গোষ্ঠীর যুক্তি ছিল, ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি কার্যকর হলে তাঁর হাতে সভাপতি পদ আর থাকবে না।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সংগঠন টিকিয়ে রাখতেই তিনি পুরসভার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বরই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহার কাছে।

জোড়া পদ থেকে অব্যাহতি?
২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, হাবড়া শহর তৃণমূলের নতুন সভাপতি হয়েছেন অনুপ দাস। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি সীতাংশু দাসের ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ গৃহীত হয়, তবে কার্যত তিনি দু’পদ থেকেই সরে দাঁড়াবেন।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সীতাংশুবাবু অবশ্য জানিয়েছেন, “জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নির্দেশেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।” যদিও হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে যে হাবড়ার তৃণমূলের ভেতরে চলছে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং পুরোনো নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।