পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি! খুনের পর দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে পাথর বেঁধে নদীতে ফেলল পরিবার, বেপাত্তা নাবালক ভাই-বোন!

বাড়িতেই দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে গুলি করে খুন করার পর তাঁর দেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো নৃশংস অভিযোগ উঠেছে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। মধ্য প্রদেশের মোরেনা জেলায় এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, এটি ‘অনার কিলিং’ বা সম্মান রক্ষার নামে খুন।

খুনের নেপথ্যে ‘প্রেমের সম্পর্ক’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ছাত্রীর নাম দিব্যা শিকারওয়ার, তাঁর বয়স উনিশ বছর। মোরেনা জেলার শিবনগরে তাঁর বাড়ি। পুলিশের অনুমান, পিছিয়ে পড়া শ্রেণির এক যুবকের সঙ্গে দিব্যার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের জেরেই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুন করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে দিব্যাকে বাড়ির মধ্যে গুলি করে খুন করা হয়। এরপর অপরাধ লুকানোর জন্য তাঁর দেহ লোপাটের চেষ্টা করা হয়।

নিখোঁজ ডাকার পরই খুলল রহস্য
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২৭ সেপ্টেম্বর, যখন পুলিশের কাছে একটি ফোন আসে। সেই ফোনে দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার কথা জানানো হয় এবং তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

ফোন পেয়ে পুলিশ দিব্যার বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশ লক্ষ্য করে, দিব্যার নাবালক ভাই-বোনকে বাড়িতে দেখতে পাওয়া যায়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দিব্যার বাবা-মা একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলেন এবং দাবি করেন, দিব্যা আত্মহত্যা করেছেন।

কিন্তু, যখন দিব্যার দেহ কোথায় জানতে চাওয়া হয়, তখন জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়েন বাবা ভারত শিকারওয়ার।

পচাগলা দেহ উদ্ধার, বেপাত্তা ভাই-বোন
দিব্যার বাবা স্বীকার করেন যে, তিনি মেয়ের দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে পাথর বেঁধে কুঁওয়ারি নদীতে ফেলে দিয়েছেন। এর জন্য তিনি গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন।

তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে দিব্যার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে দিব্যাকে গুলি করা হয়েছিল।

এই খুনের ঘটনায় দিব্যার বেপাত্তা থাকা নাবালক ভাই-বোনও জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ এই ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখছে।