‘কলাবউকে’ সিঁদুর পরিয়ে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা! সপ্তমীর বিকেলে ম্যাডক্স স্কোয়্যারে ভিড়, নবান্ন থেকে দক্ষিণে কোথায় কোথায় উপচে পড়া ভিড়?

গোটা রাজ্যে এখন উৎসবের চূড়ান্ত আমেজ। আজ মহাসপ্তমী। ভোরে গঙ্গার ঘাটে নবপত্রিকা স্নানের মাধ্যমে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কলাবউকে সিঁদুর পরিয়ে সপরিবার দেবী প্রতিমার ডান দিকে রেখে শুরু হয়েছে এবারের মাতৃ বন্দনা। একদিকে যেমন রীতি আচার মেনে পুজোর পর্ব চলছে, তেমনই উৎসবের আনন্দে ভাসছে শহর। ভিড় এড়াতে অনেকেই সকাল সকাল প্যান্ডেলে ভিড় জমিয়েছেন, আর বিকেল হতেই সেই ভিড় জনজোয়ারে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়ার চরম সতর্কতা: অষ্টমীর পরই দুর্যোগ?
পুজোর আগে দুর্যোগ হলেও সপ্তমীতে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে আজ বাঙালি চুটিয়ে ঠাকুর দেখছেন। তবে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ছাতা নিয়ে বেরোনো ভালো।
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কাল উত্তর আন্দামান সাগরে ফের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। যার প্রভাব টের পাওয়া যাবে নবমীর রাতে। নবমী নিশিতে আকাশ ঢাকবে কালো মেঘে। দশমী এবং একাদশীতে নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ভাসতে পারে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি, এই দুই দিন উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তর থেকে দক্ষিণ: কোথায় কোথায় জনসমুদ্র?
সাধারণ মানুষের উন্মাদনায় অবশ্য কোনো খামতি নেই। উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতার মণ্ডপে মণ্ডপে এখন শুধুই জনজোয়ার। শোভাবাজার রাজবাড়িতে ঐতিহ্য দেখতে বিকেল থেকেই জনতার ঢল।
বাঙালির কাছে দুর্গাপূজা শুধু ঠাকুর দেখা বা নতুন পোশাক নয়, সঙ্গে অবশ্যই থাকবে জমাটি খাওয়াদাওয়া ও দেদার আড্ডা। বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষজন ভিড় জমিয়েছেন ম্যাডক্স স্কোয়্যারে, যেখানে চেয়ারে বসে চলে মনখোলা গল্প। পুজোর কয়েকদিন দৈনন্দিন জীবনের চাপ ভুলে সবাই নিজের ইচ্ছে মতো বাঁচতে চান।
শহরের যে সমস্ত পুজোয় জনতার ঢল নামছে, তার মধ্যে অন্যতম:
উত্তর কলকাতা: সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার, কলেজ স্কোয়্যার, কাশী বোস লেন, নলীন সরকার স্ট্রিট, হাতিবাগান সর্বজনীন, জগৎ মুখার্জি পার্ক, কুমোরটুলি সর্বজনীন।
দক্ষিণ কলকাতা: ত্রিধারা সম্মিলনী, বড়িশা ক্লাব, সুরুচি সংঘ, চেতলা অগ্রণী, বোসপুকুর শীতলামন্দির।
আগামীকাল সকালে অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দ্রুত ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়তে হবে, কারণ নবমী থেকে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।