হোয়াটসঅ্যাপ কি হ্যাক হতে পারে? বিতর্ক উস্কে দিলেন বিধায়ক হুমায়ুন! এই ‘ভুতুড়ে কাণ্ডে’ কার ঘাড়ে কটা মাথা?

সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু বিরোধী একটি পোস্ট এবং তাতে ডেবরা বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের সমর্থনের অভিযোগ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জনৈক ব্যক্তি প্রসূন মৈত্র একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট শেয়ার করার পরই এই বিতর্ক দানা বাঁধে।

বিধায়কের দাবি: ‘ষড়যন্ত্র’, নেই কোনো অ্যাকাউন্ট
তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন আইপিএস কর্তা হুমায়ুন কবির দ্রুত এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন এবং এটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর এই ধরনের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টই নেই। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে হুমায়ুন কবির প্রসূন মৈত্রের বিরুদ্ধে সাইবার সেলে অভিযোগও দায়ের করেছেন।

চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন প্রসূন: হোয়াটসঅ্যাপ VS ফেসবুক
হুমায়ুন কবিরের এই দাবির ঠিক পরেই তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রসূন মৈত্র। প্রসূন তাঁর মন্তব্যে কড়া ভাষায় হুমায়ুন কবিরের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রসূন মৈত্র বলেন, “আমার সাদা মনে প্রশ্ন জাগছে যে হুমায়ুন বাবু কি এতটাই অবুঝ যে হোয়াটসঅ্যাপ আর ফেসবুকের পার্থক্য বুঝতে পারেন না? মানছি উনি প্রমোটি আইপিএস, কিন্তু তাই বলে ওনাকে এতটা ভোলা লোক বলেও মানতে পারছি না।”

প্রসূন মৈত্র হুমায়ুন কবিরকে দুটি বিকল্প বেছে নিতে বলেছেন:

১. যদি তিনি এই মন্তব্য না-ই করে থাকেন, তাহলে গ্রুপ চ্যাটের সেই অংশের স্ক্রিনশট নিজের ফোন থেকেই দিয়ে দিন।
২. যদি দাবি করেন সেটা ডিলিট হয়ে গেছে, তবে সেটা পুনরুদ্ধার করা সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবের বাঁ হাতের কাজ।

প্রসূন আরও দাবি করেন, যেহেতু এর আগে জিম নওয়াজের বিরুদ্ধে সাইবার সেলে অভিযোগ করেও কোনো ফল হয়নি, তাই হুমায়ুন কবিরের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধেও সাইবার সেল কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

‘ভুতুড়ে কাণ্ড’ নাকি হ্যাকিং?
এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করছেন, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলেও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হওয়া খুবই কঠিন। একজন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা ও বর্তমান শাসক দলের বিধায়কের সঙ্গে ‘ভুতুড়ে কাণ্ড’ করার সাহস কার হতে পারে, তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

প্রসূনের পাল্টা চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই হিন্দু বিরোধী রাজনৈতিক খেলা আপাতত বেশ জমে উঠেছে। এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।