‘ফ্যান চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট’! মিথ্যা অজুহাতে বাবাই খুন করলেন মেয়েকে, ফরেনসিকে ফাঁস হল আসল সত্য!

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পারায় ফের এক ‘অনার কিলিং’-এর (Honor Killing) ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এল। মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় ১৭ বছর বয়সি দিব্যা শিকারওয়ারকে তাঁর নিজের বাবা গুলি করে খুন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি ফেলে দেওয়া হয় নদী। ইতিমধ্যেই পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
নিখোঁজ ডায়েরি, তারপর নদীতে দেহ উদ্ধার
শনিবার থেকে আচমকা নিখোঁজ ছিলেন দিব্যা। পরিবারের নিখোঁজ ডায়েরি করার পরেই তদন্তে নামে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে কুনওয়ারি নদী থেকে তাঁর পচাগলা দেহটি উদ্ধার হয়। পুলিশ জানতে পারে, প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় দিব্যার বাবা নিজেই দেহটি নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন।
মিথ্যা অজুহাত! ফরেনসিকে ফাঁস হল সত্যি
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভিন গোত্রের এক তরুণের সঙ্গে দিব্যার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্ক ঘিরেই আপত্তি ছিল পরিবারের। সন্দেহের তীর পরিবারের দিকে গেলে পুলিশি জেরায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে নানা মিথ্যা অজুহাত দেয়। কেউ দাবি করে, ‘ফ্যান চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে দিব্যা।’
কিন্তু ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট আসতেই ফাঁস হয় আসল সত্য। ফরেন্সিক রিপোর্টে স্পষ্ট যে, কিশোরীকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বন্দুক দিয়ে গুলি করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে।
দিব্যার বাবা পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে দাবি করেন, “আমি ওকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ওর মৃত্যু হয়। ভয় পেয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই, তাই দেহটি নদীতে ভাসিয়ে দিই।” কিন্তু ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণে তাঁর এই দাবি ধোপে টেকেনি। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর থেকেই দিব্যার দুই নাবালক ভাইবোন নিখোঁজ রয়েছেন।
এক মাসে দুই ঘটনা: কর্ণাটকে বাবা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন মেয়েকে
প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসে কর্ণাটকেও প্রায় একই ধরনের আরও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ভিন জাতের যুবকের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে সেখানেও এক বাবা তাঁর ১৮ বছর বয়সি মেয়েকে গলা টিপে খুন করেছিলেন।
নিজেদের কৃতকর্ম ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত বাবা, শঙ্কর, তাঁর মেয়ের মুখে কীটনাশক ভরে দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে চেয়েছিলেন। দ্রুত মেয়ের শেষকৃত্যও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তদন্তে নামে এবং শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়েন সেই ঘাতক বাবা। পুলিশ জানায়, শঙ্করের আশঙ্কা ছিল, এই সম্পর্ক মেনে নিলে তাঁর বাকি মেয়েরাও একই কাজ করতে পারে। এই ঘটনায় তাঁর আরও কয়েকজন আত্মীয় জড়িত থাকতে পারেন বলে অনুমান পুলিশের।