শৃঙ্খলিত জীবনের অবসান, দিল্লি চিড়িয়াখানার জনপ্রিয় হাতি শঙ্করের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে বন্দি প্রাণীর সুরক্ষা

দিল্লির চিড়িয়াখানার জনপ্রিয় বাসিন্দা, ২৯ বছর বয়সী আফ্রিকান হাতি শঙ্করের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত আটটা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। শঙ্করের মৃত্যুর খবরে কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে প্রাণিপ্রেমীরা সকলেই শোকাহত। এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শঙ্কর সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে তার খাওয়াদাওয়া কমে যায় এবং পেট খারাপ হয়। পশুচিকিৎসক দল তাকে স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করলেও সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে শঙ্কর শেডের মধ্যেই পড়ে যায় এবং তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

শঙ্করের অতীত এবং বিতর্ক
শঙ্কর ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে জিম্বাবোয়ে থেকে দিল্লি চিড়িয়াখানায় এসেছিল এবং প্রায় ২৭ বছর ধরে সেখানেই সবার প্রিয় হয়ে ছিল। ২০০৫ সালে তার সঙ্গিনী বোম্বাই মারা যাওয়ার পর থেকেই শঙ্কর একাই থাকছিল।

শঙ্করের জীবনে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ছিল। বিশেষ করে ‘মস্ত’ নামক শারীরবৃত্তীয় অবস্থার সময় তার আচরণ আগ্রাসী হয়ে উঠত, যার কারণে প্রায়ই তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হতো। ২০২৩ সালে এমন এক ঘটনার সময় শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেললে সে নিজেই আহত হয়েছিল এবং এক কর্মীও আঘাত পেয়েছিলেন। পরের বছর দীর্ঘ সময় শিকলে বাঁধা থাকার কারণে তার পায়ে ক্ষত তৈরি হয়। এই ঘটনার জেরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্ব চিড়িয়াখানা ও অ্যাকোয়ারিয়াম সংস্থা (WAZA) দিল্লির চিড়িয়াখানার সদস্যপদ স্থগিত করে।

শঙ্করের মৃত্যু চিড়িয়াখানার বন্দি প্রাণীদের সুরক্ষা ও সঠিক পরিচর্যা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। তার মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে ভারতীয় পশুচিকিৎসা গবেষণা সংস্থার (IVRI) বিশেষজ্ঞদের দিয়ে। তদন্ত কমিটিতে স্বাস্থ্য পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের এক প্রতিনিধিও রয়েছেন।