শরীরের গোপন অংশে স্ট্যাপলার পিন! কেরলে দম্পতির ভয়ঙ্কর অত্যাচারে শিউরে উঠবেন আপনিও

কেরালার মধ্যাঞ্চলে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তারা দুই যুবককে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালিয়েছে। নির্যাতনের মধ্যে ছিল শরীরে স্ট্যাপলার পিন ঢোকানো, যৌনাঙ্গে মরিচ স্প্রে, লোহার রড ও চেইন দিয়ে প্রহার এবং টাকা-পয়সা লুট। এই ঘটনা কেরালায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত দম্পতি হলেন জয়েশ ও তার স্ত্রী রেশমি, যারা চারালকুন্নু, কৈপুরামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতি ১ সেপ্টেম্বর এবং ৫ সেপ্টেম্বর দুটি আলাদা ঘটনায় দুই যুবককে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন করে। প্রথম শিকার ১৯ বছর বয়সী এক যুবক, যার সঙ্গে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়েছিল। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে রেশমির সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করা হয়, যার ভিডিও রেকর্ড করা হয়। এরপর তাকে মারধর করে যৌনাঙ্গে মরিচ স্প্রে করা হয় এবং টাকা লুট করে নির্জন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় শিকার, যিনি জয়েশের প্রাক্তন সহকর্মী ছিলেন, তাকে ৫ সেপ্টেম্বর ডেকে নিয়ে গিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে যৌনাঙ্গে, ২৩টি স্ট্যাপলার পিন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এক ভিকটিমের দাবি, এই নির্যাতন কালা জাদুর একটি আচার-অনুষ্ঠানের অংশ ছিল। তবে এই তথ্যটি এখনও যাচাই করা হয়নি।
প্রথম যুবক গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে। প্রথমে তিনি অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করলেও পরে পুলিশের কাছে দম্পতির নাম জানান। পুলিশ জয়েশ ও রেশমিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তুললে বিচারক তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।
এই মুহূর্তে পুলিশ দুটি মামলাকে একত্রিত করে তদন্ত চালাচ্ছে। তারা খতিয়ে দেখছে যে এই দম্পতির আরও কোনো শিকার আছে কি না। এই ভয়ঙ্কর অপরাধ শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এটি মানবতারও চরম লঙ্ঘন বলে স্থানীয় সমাজকর্মীরা মনে করছেন।