শ্বশুর-জামাইয়ের ঝামেলা মেটাতে থানায় পুলিশ, সেখানেই ঘটল ভয়ংকর কাণ্ড, চোখের সামনে জামাইকে কুপিয়ে খুন

সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটাতে শ্বশুর এবং জামাই পৌঁছেছিলেন থানায়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই যা ঘটল, তা দেখে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। জানা গিয়েছে, গুজরাটের সুরাটের আমরোলি থানায় প্রকাশ্যে নিজের জামাইকে কুপিয়ে খুন করেছেন শ্বশুর। মৃত যুবকের নাম সাগর।

পুলিশ সূত্রে খবর, সাগরের স্ত্রী সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা হন। কিন্তু পরিবারের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করায় এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিলেন না শ্বশুর দেবীদাস কাধরে। তিনি মেয়েকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে পরিবারে চরম অশান্তি শুরু হয়। ঝামেলা মেটানোর জন্যই সাগর এবং তাঁর শ্বশুর দেবীদাস থানায় গিয়েছিলেন।

প্রকাশ্যেই চলল ছুরির কোপ
থানায় পুলিশের সামনেই তাঁদের মধ্যে তুমুল কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বচসার একপর্যায়ে দেবীদাস হঠাৎই তাঁর জামার ভেতর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে সাগরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুলিশের চোখের সামনেই জামাইকে একের পর এক ছুরির কোপ মারেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন সাগর। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রকাশ্যে এমন ঘটনার পর থানার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ দ্রুত দেবীদাসকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে।

জামাইকে বেধড়ক মার শ্বশুরবাড়ির
পারিবারিক বিবাদের জেরে জামাইয়ের উপর শ্বশুরবাড়ির আক্রমণের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। গত জুলাই মাসে উত্তর প্রদেশের পিলিভিট জেলায় ইয়ামিন নামের এক যুবককে তাঁর শ্বশুর ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা মিলে বেধড়ক মারধর করেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইয়ামিনের শ্বশুর বেল্ট দিয়ে তাঁকে মারছেন এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেছেন।

জানা যায়, ইয়ামিন মাদকাসক্ত ছিলেন, যা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায়শই ঝামেলা হত। অভিযোগের ভিত্তিতে ইয়ামিনকে নিমন্ত্রণ করে ডেকে এনে এমন অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তিন অভিযুক্তকে আটক করেছে, যদিও ইয়ামিন কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। এই দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, পারিবারিক অশান্তি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।