নতুন জিএসটি ২.০, এবার আসছে জিএসটি ৩.০, বড় ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে নতুন জিএসটি (GST) ব্যবস্থা, যা ‘জিএসটি ২.০’ নামে পরিচিত। এই নতুন কাঠামোতে ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশের জিএসটি স্ল্যাব তুলে দিয়ে শুধুমাত্র ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশের স্ল্যাব রাখা হচ্ছে। এই বড় পরিবর্তনের ঘোষণার পরই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকার এর পরেও থেমে থাকছে না। এরপর আসবে আরও উন্নত সংস্করণ ‘জিএসটি ৩.০’।
কেন এই পরিবর্তন?
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী জানান যে ২০১৭ সালে যখন জিএসটি চালু হয়েছিল, তখন তা ছিল ‘জিএসটি ১.০’। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গোটা দেশকে একটি একক কর কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসা। এখন ‘জিএসটি ২.০’-তে কর ব্যবস্থা আরও সরল করা হচ্ছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো:
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করা।
ব্যবসা সহজ করা: ছোট ও বড় ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা করা সহজ করে তোলা।
সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমানো: অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের উপর কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের উপর থেকে আর্থিক বোঝা কমানো।
নতুন জিএসটি কাঠামোতে কী থাকছে?
নতুন কাঠামোতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যগুলিতে সবচেয়ে কম হারে কর বসানো হবে এবং বিলাসবহুল পণ্যগুলিতে বেশি কর থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, নুন ও চিনি একই স্ল্যাবের আওতায় থাকলেও, চিনিযুক্ত পানীয় এবং মিষ্টি পণ্যের উপর আলাদা কর বসানো হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা আনা হবে; স্কুলের জিনিসপত্র করমুক্ত হলেও বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারে এই ছাড় থাকবে না।
অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, জিএসটি ২.০-তে কর কমানোর ফলে যে লাভ হবে, তা যেন সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে সরকার কড়া নজর রাখবে।
জিএসটি ৩.০-এর লক্ষ্য
নির্মলা সীতারামনের মতে, ‘জিএসটি ৩.০’-এর প্রধান লক্ষ্য হবে ‘জিএসটি ২.০’-তে আনা সরলীকরণ এবং স্বচ্ছতাকে আরও উন্নত করা। এটি কর ব্যবস্থায় আরও নতুন এবং আধুনিক সংস্কার নিয়ে আসতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।