সম্পত্তির জন্য ১৫ বছর পর বাবার কুশপুতুল দাহ, শ্মশানে ধরা পড়ল ছেলের কীর্তি

বাবা নিখোঁজ প্রায় ১৫ বছর। পরিবারের সব সম্পত্তি বাবার নামে। কিন্তু বাবার নাম থেকে সম্পত্তি নিজেদের নামে আনার জন্য ধৈর্য আর ধরছিল না ছেলের। তাই প্রতীকী কুশপুতুল দাহ করে বাবার মৃত্যুর সরকারি নথি বানাতে গিয়েই ফেঁসে গেলেন ছেলে। ঘটনাটি উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের ফাটিপুকুর এলাকার। শ্মশান কর্তৃপক্ষের বুদ্ধিমত্তায় এই জালিয়াতি সামনে আসে।

ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খ্রিস্টানপাড়ার বাসিন্দা রাম অযোধ্যা সিং প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে বিহারের কিষানগঞ্জে এক পরিচিতের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। বহু খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন যে রাম অযোধ্যা সম্ভবত আর বেঁচে নেই।

হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তির প্রকৃত দেহ না পাওয়া গেলে কুশপুতুল দাহ করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়। বুধবার দুপুরে এই নিয়ম মেনে রাম অযোধ্যার কুশপুতুল আনা হয় ফাটিপুকুর শ্মশানে। কয়েকজন মানুষকে সাক্ষী রেখে দাহও সম্পন্ন হয়। কিন্তু দাহ সম্পন্ন হওয়ার পর রামের ছেলে সঞ্জয় সিংহ ওরফে নানকি শ্মশান কমিটির কাছে বাবার ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ বা মৃত্যুর নথি চাইলে কমিটির সন্দেহ হয়।

শ্মশান কমিটির সম্পাদক ননীগোপাল দাস নথি দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, “এটি আসল দেহ নয়। আগে থেকে কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। যাচাই না করে কোনো নথি দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, আইনত এই দাহ গ্রহণযোগ্য কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনার পিছনে আসল কারণ হলো সম্পত্তি। ডেথ সার্টিফিকেট না থাকলে নিখোঁজ ব্যক্তির নামে থাকা সম্পত্তি নতুন করে হস্তান্তর করা যায় না। তাই হয়তো এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। তবে সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, “বাবার আত্মার শান্তির জন্য এই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে সরকারি প্রয়োজনে কাজে লাগবে ভেবে শ্মশানে ডেথ সার্টিফিকেট চেয়েছিলাম।” তার স্ত্রী সীমা দেবী সিং বলেন, “চারদিকে যেভাবে কাগজ দেখা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সব নথি কাছে থাকা দরকার।”

এই ঘটনার বিষয়ে ইসলামপুরের বিডিও দীপান্বিতা বর্মন জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।