চাইল্ড কেয়ার লিভ, পুরুষদের ৭৩০ দিনের ছুটি কেন সম্ভব নয়, আদালতে কারণ জানাল রাজ্য

পুরুষ কর্মীদের ৭৩০ দিনের চাইল্ড কেয়ার লিভ দিলে সরকারি দফতরে কর্মীর অভাব দেখা দেবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে এই যুক্তি তুলে ধরলেন রাজ্যের অর্থ সচিব। আদালত অবমাননার একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য জানায়, এই মুহূর্তে কেন্দ্রের নীতি মেনে পুরুষ কর্মীদের এত দিনের ছুটি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যে সব পুরুষ কর্মচারী এককভাবে সন্তানের দেখভাল করেন (সিঙ্গল ফাদার), তাঁদের আবেদন যেন বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

আদালতে রাজ্যের যুক্তি
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, বর্তমানে মহিলা কর্মীরা ৭৩০ দিনের চাইল্ড কেয়ার লিভ পেলেও পুরুষ কর্মীরা পান মাত্র ৩০ দিনের ছুটি। যদি পুরুষদেরও দু’বছরের ছুটি দেওয়া হয়, তাহলে রাজ্য সরকারি দফতরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। রাজ্যের অর্থ সচিব বলেন, “শিশুদের দেখাশোনার জন্য পুরুষ কর্মীদের ৭৩০ দিন অর্থাৎ দু’বছরের ছুটি দিলে কাজ করবেন কারা? সরকারি দফতরে কর্মচারীর অভাব হবে।”

বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই বৈষম্যকে সমর্থন না করলেও রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্তব্য করেন, এই মুহূর্তে রাজ্যের পক্ষে এই নীতি কার্যকর করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নারী-পুরুষ অনুপাতে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য এলে হয়তো এই নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

একক বাবার জন্য বিশেষ বিবেচনা
আদালত নির্দেশ দেয়, রাজ্যের পক্ষে এখনই এই নীতি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও, যেসব পুরুষ কর্মী এককভাবে সন্তানের দেখাশোনা করেন, তাঁদের আবেদনগুলো সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখা উচিত। বিচারপতি বলেন, “যদি কোনো পুরুষ সিঙ্গল ফাদার হন বা সন্তানের মা বা অন্য কেউ তার দেখাশোনার দায়িত্বে না থাকেন, সেক্ষেত্রে তাঁর ৭৩০ দিনের ছুটির আবেদন খতিয়ে দেখা উচিত।”

আদালত শিক্ষা দফতরের সচিবকে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে, এই ধরনের আবেদনগুলো দ্রুত বিবেচনা করার জন্য। মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী শামীম আহমেদ যুক্তি দেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে চাইল্ড কেয়ার লিভ-এর ক্ষেত্রে এই বৈষম্য সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার পরিপন্থী, যেখানে সকলের জন্য সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে আদালতের এই রায়ে আপাতত রাজ্যের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না।