দুপুরে ভাতঘুম, আরাম নাকি বিপদ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

দুপুরে পেট ভরে খাওয়ার পর বিছানায় একটু গা এলিয়ে দেওয়া অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু এই ভাতঘুম কি আসলেই শরীরের জন্য ভালো? এ নিয়ে কিন্তু নানা মত প্রচলিত আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুপুরের ঘুম সাময়িক প্রশান্তি দিলেও এর কিছু অসুবিধাও থাকতে পারে।
আয়ুর্বেদ কী বলছে?
ভারতীয় আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ঐশ্বর্য্য সন্তোষের মতে, দুপুরের ঘুম মানুষের শরীরে ‘স্নিগ্ধ’ প্রভাব ফেলে, অর্থাৎ এটি শরীরকে শিথিল করে। তবে এর কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ফলও দেখা দিতে পারে। তাঁর মতে, খাবার খাওয়ার পরপরই দিনে বা রাতে কখনোই ঘুমানো উচিত নয়। অন্তত শোয়ার এক ঘণ্টা আগে হাঁটাচলা করা কিংবা বসে থাকা আবশ্যক, নতুবা খাবার হজম হতে সমস্যা হবে এবং শরীরে দুর্বলতা দেখা দেবে।
কারা দুপুরে ঘুমাতে পারেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের ঘুম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা বা পেশার মানুষরা দুপুরে ঘুমালে উপকৃত হতে পারেন:
শিশু: শিশুদের জন্য দুপুরের ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
ভোর থেকে পরিশ্রমী ব্যক্তি: যারা খুব ভোর থেকে কঠিন পরিশ্রম করেন, তাদের শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য ভাতঘুম উপকারী হতে পারে।
বয়স্ক ব্যক্তি: বয়স্ক মানুষেরা দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারেন।
দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণকারী: যারা লম্বা ভ্রমণ করে এসেছেন, তাদের ক্লান্তি দূর করতে দুপুরের ঘুম সাহায্য করে।
অসুস্থ, দুর্বল বা কম ওজনের ব্যক্তি: অসুস্থতা বা দুর্বলতার কারণে যাদের শরীর শক্তিহীন, কিংবা যারা কম ওজনে ভুগছেন, তারাও দুপুরে ঘুমাতে পারেন।
কারা দুপুরে ঘুমাবেন না?
অন্যদিকে, কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে দুপুরে ঘুমানো এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে:
কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগী: যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাদের দুপুরে ঘুমানো উচিত নয়।
হজমের সমস্যায় ভুগছেন: হজমের সমস্যা থাকলে দুপুরের ঘুম তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
শরীরে ব্যথা বেশি: যারা শরীরে ব্যথা বেশি অনুভব করেন, তাদেরও দুপুরে ঘুমানো এড়িয়ে চলা উচিত।
দুপুরের ঘুমের সম্ভাব্য অসুবিধা
দুপুরে ঘুমালে অনেকের শরীরে ভারী ভাব, খাবারে অ্যালার্জি, অত্যধিক মাথাব্যথা, নাকে জ্বালাভাব, ক্রনিক রাইনিটিস (দীর্ঘস্থায়ী সর্দি) অথবা পেশিতে টান অনুভব করতে পারেন। তাই সাধারণত দুপুরের ঘুম এড়িয়ে যাওয়াই শরীরের জন্য ভালো।