ঋতু বদলের সময়ে রাতের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? কারণ ও প্রতিকার জানুন!

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে অনেকেই ঘুমের ব্যাঘাতে ভুগছেন। ছোট থেকে বড়, প্রায় সকলেরই রাতে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কখনো হঠাৎ ঠান্ডায় তো কখনো গরমে শরীর ঘেমে ঘুম ভেঙে যায়। তবে রাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই যদি নিয়মিত এমনটা ঘটে, তবে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে শোয়ার ঘরের পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করা অন্যতম। এছাড়াও, থাইরয়েড, হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকলে রাতের বিভিন্ন সময়ে ঘুম ভেঙে যেতে পারে এবং শরীরে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। আসুন, রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কিছু কারণ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

ঘুমের পরিবেশ: ঘুমের প্রথম স্তরটি খুবই হালকা হয়। এই সময় সামান্য গরম বা ঠান্ডা লাগলে, কোনো শব্দ হলে অথবা আলো প্রবেশ করলে সহজেই ঘুম ভেঙে যেতে পারে। গভীর ঘুমের জন্য শোয়ার ঘর আরামদায়ক ঠান্ডা, নীরব ও অন্ধকার হওয়া প্রয়োজন।

মানসিক অস্বস্তি: মানসিক অস্থিরতা, দুঃস্বপ্ন অথবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অনেকে ঘুমের মধ্যে আতঙ্কিত হয়েও জেগে ওঠেন।

অতিরিক্ত থাইরক্সিন: থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় হলে বেশি পরিমাণে থাইরক্সিন হরমোন উৎপন্ন হয়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ঘাম, অস্বস্তি ও আতঙ্ক হতে পারে।

রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম: এই সমস্যায় পায়ে টান লাগার অনুভূতি হয় এবং রাতে ঘুমের মধ্যে এটি আক্রমণ করতে পারে। শরীরে আয়রনের অভাব এর একটি প্রধান কারণ।

স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অনিদ্রা: বর্তমানে এটি একটি সাধারণ সমস্যা, যা সব বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে।

যেসব রোগের কারণে রাতে বিভিন্ন সময়ে ঘুম ভাঙে:

রাত ১১টা-১টা: গলব্লাডারের সমস্যা থাকলে এই সময় ঘুম ভাঙতে পারে। মানসিক হতাশা এর একটি অন্যতম কারণ।
রাত ১টা-৩টা: এটি লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠান্ডা জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাত ৩টা-৫টা: এই সময় ঘুম ভেঙে যাওয়া ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ভোর ৫টা-৭টা: মনে দ্বিধা থাকলে এই সময় ঘুম ভাঙে। ঘুম ভাঙলে বিছানায় না থেকে শরীরচর্চা করা উচিত।
রাতে ভালো ঘুমের জন্য যা করণীয়:

রাতে ঘুমের সমস্যা হলে ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলুন।
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
খালি পেটে বা অতিরিক্ত ভরা পেটে ঘুমানো উচিত নয়।
ঘুমের আগে টেলিভিশন বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকানো উচিত না।
শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান করতে পারেন।
শোয়ার ঘর অন্ধকার, আরামদায়ক ঠান্ডা ও নীরব হওয়া প্রয়োজন। ঘরে অতিরিক্ত জিনিসপত্র বা যন্ত্রপাতি রাখা উচিত নয়।
ঘুমের আগে হালকা গরম জলে স্নান, মেডিটেশন, জীবনসঙ্গীর সাথে কথা বলা, ডায়েরি লেখা, বই পড়া বা হালকা গান শোনার মাধ্যমে মনকে চাপমুক্ত করুন।
অ্যালকোহল পান করে ঘুমোনো গভীর ঘুম নয়।
দিনের বেলা পর্যাপ্ত শরীরচর্চা ঘুমের জন্য জরুরি, তবে ঘুমাতে যাওয়ার চার ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
নিয়মিত রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটি সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।