১ নভেম্বর স্তব্ধ হতে চলেছে দিল্লি? ১০ লাখ মানুষের সমাগমে মহা বিপদের আশঙ্কা, রাহুলের পর এবার সোনিয়ার দরবারে আর্জি

দীপাবলি ও ধনতেরাসের ঠিক মুখে রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের প্রস্তাবিত মহার্যালিকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানে এই মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই)-র দাবি, উৎসবের এই ভরা মরসুমে সমাবেশের কারণে রাজধানীর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাহুল গান্ধীর পর এবার সোনিয়ার দুয়ারে আর্জি সমাবেশের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রথমে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেখান থেকে কোনো ইতিবাচক আশ্বাস মেলেনি। ব্যবসায়ীদের দাবি, রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করেন, তবে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। রাহুলের কাছ থেকে সুরাহা না পেয়ে অবশেষে কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপ চেয়ে আকুল আবেদন জানিয়েছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আর্জি, উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের রুটিরুজির কথা মাথায় রেখে এই সমাবেশ অন্তত ১০-১১ নভেম্বরের পর পিছিয়ে দেওয়া হোক অথবা এর স্থান পরিবর্তন করে বুরারি গ্রাউন্ডের মতো কোনো খোলা ময়দানে নিয়ে যাওয়া হোক।
কেন এই মহা বিপদের আশঙ্কা? সিটিআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বরের এই জনসভায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার বাস ও যানবাহন দিল্লিতে প্রবেশ করবে। অথচ রামলীলা ময়দানের মাত্র পাঁচ কিলোমিটারের পরিধির মধ্যেই অবস্থান করছে চাঁদনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, খারি বাওলি, করোল বাগ, কাশ্মীরি গেট ও দরিয়াগঞ্জের মতো ২০টি প্রধান পাইকারি ও খুচরো বাজার।
আগামী ৬ নভেম্বর ধনতেরাস এবং ৮ নভেম্বর দীপাবলি। এই সময় প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক ও মালবাহী গাড়ি এই বাজারগুলি থেকে দেশজুড়ে পণ্য সরবরাহের কাজ করে। ১ নভেম্বরের মতো পিক-আওয়ারে হাজার হাজার বাস ও সমর্থক মধ্য ও পুরান দিল্লির রাস্তায় নামলে পুরো পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। জওহরলাল নেহরু মার্গ, বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ ও নেতাজি সুভাষ মার্গের মতো প্রধান সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে চরম যানজট তৈরি হয়ে কার্যত লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
হাতজোড় করে ব্যবসায়ীদের আকুল আবেদন সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গয়াল হাতজোড় করে জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরোধিতা করছেন না। কিন্তু দীপাবলির সময় প্রতিদিন যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, তা থমকে গেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা পথের বসে যাবেন। যদিও দিল্লি পুলিশ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কিছু নির্দিষ্ট শর্তে এই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবুও বিশাল আর্থিক ক্ষতি ও রাজধানীর স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এখন দিন গুনছেন দিল্লির কোটি কোটি ব্যবসায়ী।