সবাই কি আয়ুষ্মান কার্ডের যোগ্য? সাধারণ কার্ড বনাম ‘বয় বন্দনা’-র আসল সত্য ফাঁস, আজই জেনে নিন

দেশের নাগরিকদের সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের তরফে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল আয়ুষ্মান ভারত যোজনা। তবে সাধারণ ‘আয়ুষ্মান কার্ড’ এবং সদ্যচর্চিত ‘আয়ুষ্মান বয় বন্দনা কার্ড’-এর যোগ্যতার মানদণ্ডে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আবেদন করার আগে এই দুই কার্ডের তফাত বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণ আয়ুষ্মান কার্ডের শর্তাবলি সাধারণ আয়ুষ্মান কার্ডটি মূলত ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB PM-JAY)-এর অধীনে প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি মানদণ্ড ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ফলে সব নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য নন। নিয়ম মেনে যোগ্য পরিবারগুলি তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বছরে নির্দিষ্ট ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন।
আয়ুষ্মান বয় বন্দনা কার্ড: কাদের জন্য প্রযোজ্য? অন্যদিকে, ‘আয়ুষ্মান বয় বন্দনা কার্ড’ বিশেষভাবে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত কিংবা স্বচ্ছল—যেকোনো আর্থ-সামাজিক পটভূমির প্রবীণ নাগরিকই এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বয়সসীমা ৭০ বছর বা তার বেশি হলেই দেশের যেকোনো প্রবীণ নাগরিক এর আওতাভুক্ত হতে পারবেন।
কী পরিমাণ স্বাস্থ্য কভারেজ মেলে? এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য প্রবীণ নাগরিকরা ‘AB PM-JAY’ প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কভারেজ পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি, যে প্রবীণ নাগরিকরা এমন পরিবারের সদস্য যারা ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় আছেন, তাঁদের জন্য আলাদা অতিরিক্ত কভারেজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে বার্ধক্যের চিকিৎসায় আর্থিক অনটন আর কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, সাধারণ আয়ুষ্মান কার্ডের ক্ষেত্রে কঠোর আয়ের মাপকাঠি বা নির্দিষ্ট শর্ত থাকলেও, ‘আয়ুষ্মান বয় বন্দনা’ উদ্যোগটি ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক সকল প্রবীণদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।