৮৮ ঘণ্টার টানা জেরা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের মুখে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি?

সরকারি জমি বেআইনিভাবে নিজেদের দখলে রেখে চড়া দামে বিক্রির এক সুসংহত ও জটিল চক্রান্তের পর্দাফাঁস করতে গিয়ে এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ ৮৮ ঘণ্টার একটানা ম্যারাথন জেরা এবং টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক বা ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সিআইডি এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ এই অভিযানে জমি কেলেঙ্কারির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা কোন কোন হাই-প্রোফাইল মাথার নাম উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

তদন্তকারী সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর শুক্রবার সুমিত রায়কে কলকাতার একটি বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে সরকারিভাবে জমা দেওয়া নথিপত্র এবং কেস ডায়েরিতে তদন্তকারী আধিকারিকেরা চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছেন যে, জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিকে তদন্তে পুরোপুরি অসহযোগিতা করলেও পরবর্তীতে জেরার মুখে নিজের অপরাধের কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন সুমিত। কীভাবে ছলে, বলে এবং কৌশলে সরকারি জমিগুলিকে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করে দেদার বিক্রি করা হতো, সেই গোটা প্রক্রিয়ার কড়ি দিয়ে কড়ি হিসেব এখন বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

মূলত শালবনী এলাকার একটি বিতর্কিত জমি কেলেঙ্কারি মামলার কিনারা করতেই সুমিত রায়কে জালে তুলেছে সিআইডি। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা সুমিতের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে চক্ষুচড়কগাছ হয়েছেন। তাঁর অ্যাকাউন্টে বিগত কিছু দিনে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট হদিশ মিলেছে। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোন কোন উৎস থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে এসে পৌঁছাল এবং এই দুর্নীতির বেড়াজালে অন্য কোনো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। এর আগে সুমিত রায় সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছিলেন যে, তাঁকে চাপ দিয়ে কোনো এক বিশেষ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম বলানোর জন্য জোর করা হচ্ছে। কিন্তু শেষরক্ষা যে হল না, তা বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে যায়। সবমিলিয়ে, এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি এবং চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারির জাল আগামী দিনে কোন রাজনৈতিক মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজ্যবাসী।