৮ম বেতন কমিশন নিয়ে বিরাট খবর! ১ কোটিরও বেশি সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন-পেনশন কবে বাড়বে?

গঠন হওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত। আর এরই মধ্যে নির্ধারিত কাজের সময়সীমার প্রায় ৬৬ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলেছে ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। বর্তমানে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং সংশোধিত বেতন কাঠামোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোটি কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরা।
কমিশনের এই নতুন সুপারিশ কার্যকর হলে সরাসরি উপকৃত হবেন প্রায় ৫০ লক্ষ সরকারি কর্মী এবং ৬৫ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী। এর মধ্যে সেনা ও রেলের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
কখন জমা পড়বে চূড়ান্ত রিপোর্ট?
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে এই ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন। এতে সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক পঙ্কজ জৈন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক পুলক ঘোষ।
নিয়ম অনুযায়ী, কমিশন গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করতে হয়। সেই নির্ধারিত সময়সীমা মেনেই আগামী ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বেতন কাঠামো ও ভাতে কী কী পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদন পাওয়া ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ (Terms of Reference) অনুযায়ী, মূলত তিনটি বড় ক্ষেত্রে সুপারিশ তৈরি করছে কমিশন:
মূল বেতন ও পে-ম্যাট্রিক্স: নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে সংশোধিত বেতন কাঠামো এবং পে-ম্যাট্রিক্স পুনর্নির্ধারণ করা।
ভাতা ও পেনশন রিফাইনমেন্ট: মহার্ঘ ভাতা (DA), পেনশনভোগীদের জন্য ‘ডিয়ারনেস রিলিফ’ (DR) এবং বাড়িভাড়া ভাতা বা এইচআরএ (HRA) পর্যালোচনা করা।
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতির নীতি এবং অন্যান্য কাজের নগদ/অ-নগদ সুযোগ-সুবিধা পুনর্মূল্যায়ন করা।
এতদিন পর্যন্ত কতটা এগোল কমিশনের কাজ?
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাস থেকেই আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয় এবং জুলাই মাসের মধ্যে বিভিন্ন পক্ষ—যেমন বিভিন্ন কর্মী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রক এবং পেনশনভোগী অ্যাসোসিয়েশনগুলির থেকে লিখিত প্রস্তাব ও মতামত সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সেইসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ তৈরি করা হচ্ছে।
কবে থেকে মিলবে বর্ধিত বেতনের সুবিধা?
সুপারিশ জমা পড়লেই যে সাথে সাথে নতুন স্কেলে বেতন চালু হয়ে যাবে, তা নয়। ঐতিহাসিক ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর তা পর্যালোচনার জন্য বিশেষ সচিব পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয় এবং ক্যাবিনেটের চূড়ান্ত অনুমোদন লাগে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের মে মাসে রিপোর্ট জমা পড়লে চূড়ান্ত অনুমোদন ও সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আরও ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগতে পারে। ফলে ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলেও কর্মীদের পকেটে পূর্ণাঙ্গ বর্ধিত বেতন বা এর বকেয়া (Arrears) পৌঁছাতে ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং ন্যূনতম বেতন কত নির্ধারিত হয়, তা জানার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন সকলে।