৫০ কোটি ডলার ঢাললেন ইলন মাস্ক! ট্রিলিয়নিয়ারের অর্থে মার্কিন সিনেট দখলের লড়াই গরম

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সব রেকর্ড চুরমার করে এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি। নির্বাচন সংক্রান্ত অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ‘ওপেন সিক্রেটস’ (OpenSecrets)-এর অনুমান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা বা ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার) স্পর্শ করতে চলেছে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশন (এফইসি)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তেসরা নভেম্বরের ভোটের আগেই ৯.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়ে গেছে। এর সিংহভাগই আসছে বহিরাগত ধনকুবের এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা ‘সুপার প্যাক’ (Super PACs) থেকে। নিয়মানুযায়ী সাধারণ প্রার্থীরা সরাসরি অনুদানের সীমাযুক্ত হলেও, এই সুপার প্যাকগুলো ব্যক্তি বা কর্পোরেশন থেকে সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ করে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে পারে।
ইলন মাস্ক বনাম সোরোস: কোটিপতিদের মহারণ এবারের প্রচারণায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। তিনি একা রিপাবলিকান প্রার্থীর সমর্থনে বিশেষ করে টেক্সাসের হাই-প্রোফাইল সিনেট লড়াইয়ে প্রায় ৫০ কোটি (অর্ধ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দিয়েছেন। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে মাস্কের ‘আমেরিকা প্যাক’ এবং রিপাবলিকান সিনেট ফান্ড কোটি কোটি ডলার ঢালছে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক দলকে সহায়তায় পিছিয়ে নেই উদারপন্থি কোটিপতিরাও। শতকোটিপতি জর্জ সোরোসের সংস্থাগুলো প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং নিউইয়র্কের প্রাক্তন মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়ে নীল শিবিরকে শক্ত ভিত্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া ক্রিপ্টো জায়ান্ট ‘রিপল’ ও ‘কয়েনবেস’ যৌথভাবে ৬৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ঢেলেছে নির্বাচনী ময়দানে।
কোথায় খরচ হচ্ছে এই বিপুল অর্থ? নির্বাচনী ব্যয়ের সিংহভাগ অংশই যাচ্ছে প্রচারণামূলক টিভি বিজ্ঞাপন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের শেষ পর্যন্ত কেবল প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনেই খরচের পরিমাণ ১১.১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। টেক্সাস, মিশিগান, ওহাইও, আইওয়া এবং মেইনের মতো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোর টিভি স্ক্রিন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বিজ্ঞাপনের বন্যায় প্লাবিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবার খরচের মাত্রা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোটিপতি দাতা ও বহিরাগত সুপার প্যাকগুলোর এই অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব মার্কিন গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তিকে বিপুল অর্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।