৩০ দিনে দ্বিতীয়বার! রাজনৈতিক চরম উত্তাপের মাঝেই আচমকা কেন আবার আমেরিকা ছুটছেন রাহুল?
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের একবার বিদেশ সফরে যেতে চলেছেন। ভারতের রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশন ও ভোট সংক্রান্ত বিতর্ক যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই আবহে আগামী ১৬ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত রাহুলের আমেরিকা সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক。
চার দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে রাহুলের মূল গন্তব্য নিউইয়র্ক ও শিকাগো। কংগ্রেস সূত্রে খবর, প্রবাসী ভারতীয়দের (Indian Diaspora) সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ‘জেন-জি’ (Gen-Z) তথা তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেই এই সফরের আয়োজন। নিউইয়র্কে ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক এবং শিকাগোর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে সফরের সময়সূচি নিয়ে। মাত্র ৩০ দিনের ব্যবধানে এটি রাহুল গান্ধীর দ্বিতীয় বিদেশ সফর হতে চলেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শাসকদলের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের পর হঠাৎ এই আমেরিকা সফরের ঘোষণা আসতেই বিজেপি তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে।
রাহুলের এই সফরকে কটাক্ষ করে পদ্মশিবির দাবি করেছে, বিরোধী দলনেতা দেশের সমস্যা সমাধানের চেয়ে বিদেশে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করেন। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার এই ধরনের সফর এবং বিদেশে রাহুলের সঙ্গে কাদের গোপন বৈঠক হয়? বিজেপি এই সফরকে স্রেফ “ছুটি কাটানো” ও বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে জানানো হয়েছে, প্রবাসী ভারতীয় ও তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের মূল কাণ্ডারি। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা যে কোনও দায়িত্বশীল বিরোধী দলনেতার স্বাভাবিক কর্মসূচির অঙ্গ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই ধরনের সফর নতুন নয়। অতীতেও তিনি মার্কিন মুলুকে গিয়ে থিংক ট্যাঙ্ক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। কিন্তু দেশের ভেতরে যখন ভোট ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে জোরদার তরজা চলছে, তখন এই বিদেশ সফর জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং রাহুল গান্ধী ফিরেই বা কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক শিবিরের।