৪০০০ মানুষ নিখোঁজ, হাজার ছাড়াল মৃতদেহ! নেপালের প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় বিশ্বকে চরম হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

নেপালের ভোটেকোশী নদীর বিধ্বংসী বন্যায় এখনও পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বুধবার সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট ঘটে যাওয়া এই প্রলয়ঙ্কারী বিপর্যয়কে তিনি হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলকে একযোগে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংসদে দেওয়া এক বিস্তারিত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, হিমালয়ের উঁচু চূড়া থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার ফলেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। রাসুয়া জেলার নদী তীরবর্তী জনবসতিতে এই বন্যা আঘাত হানার পর দ্রুত তা নুওয়াকোট ও ধাডিং অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১১,৯৯৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রায় ৩,৯১৬ জনের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং ১,১১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আহতদের একটা বড় অংশকে ইতিমধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিপর্যয়ের প্রথম মুহূর্ত থেকেই নেপাল সেনা, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ১৩ হাজারেরও বেশি সদস্যকে নামানো হয় উদ্ধারকাজে। গর্ভবতী মহিলা, শিশু, প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অগ্রাধিকার দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নুওয়াকোটের ১৯টি শিবিরে বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দেশের পরিকাঠামোর। চালু থাকা আটটি এবং নির্মাণাধীন চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সাড়ে চারশোর কাছাকাছি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। গলছি-বেত্রাবতী-রাসুওয়াগধি সড়ক এবং পৃথ্বী হাইওয়ের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি, প্রায় আটচলিশটি সাসপেনশন ব্রিজ এবং একত্রিশটি মোটর চলাচলের সেতু ভেঙে পড়েছে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক ঠিক হলেও বিদ্যুৎ পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারত, চীন, আমেরিকা, জাপান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং জাতিসংঘের মতো একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫টি স্থানীয় এলাকাকে তিন মাসের জন্য বিপর্যয়-পীড়িত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাতশো কোটি টাকার বেশি নেপালি রুপি জমা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের ডিএনএ সংরক্ষণের কাজ চলছে জোরকদমে। তবে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে হিমালয়ের ক্রমবর্ধমান সংকটকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোরালোভাবে তুলে ধরার সময় এসেছে বলে বার্তা দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।