৩০ নভেম্বরের পর সরকারি বোর্ডে এই ভুল দেখলে কড়া ব্যবস্থা! নবান্নের নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি

রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি প্রকল্পের তথ্যভিত্তিক সাইনবোর্ড, হোর্ডিং ও বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষা ব্যবহার সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হলো। তবে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষেত্রে সাধারণের সুবিধার্থে বাংলা ভাষার পাশাপাশি নেপালি ভাষা ব্যবহার করতে হবে।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল একটি নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সমগ্র রাজ্য জুড়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে হবে।

কেন নবান্নের এই কড়া অবস্থান? নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য প্রশাসনের নজরে এসেছে যে বিভিন্ন জেলায় পঞ্চায়েত বা পুরসভা স্তরের উন্নয়নমূলক কাজের জায়গায় লাগানো বোর্ডগুলিতে মূলত ইংরেজি ভাষায় তথ্য দেওয়া থাকছে। এমনকি ১০০ দিনের কাজ, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন কিংবা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য যৌথ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে।

ইংরেজি ভাষায় তথ্য থাকার কারণে গ্রামের ও শহরের বহু সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে বুঝতে পারতেন না—

  • ঠিক কী কাজ হচ্ছে?

  • কোন প্রকল্পের অধীনে কাজ চলছে?

  • প্রকল্পের বাজেট কত এবং কার্যকারী সংস্থা কারা?

জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরতেই এবং তথ্যের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এই বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।

কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে? সরকারি প্রকল্পের কাজের জায়গায় টাঙানো যে কোনো সূচনা বোর্ড, দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড, কাজের বিবরণী হোর্ডিং থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তি—সব ক্ষেত্রেই আঞ্চলিক ভাষা অগ্রাধিকার পাবে। রাজ্যের সমতল অঞ্চলে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা এবং পাহাড়ের দুই জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পং-এ নেপালি ও বাংলা ভাষায় পুরো তথ্য তুলে ধরতে হবে।

নির্ধারিত ৩০শে নভেম্বরের সময়সীমার মধ্যে সমস্ত জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশ কার্যকর করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।